প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভালো কিংবা মন্দ যাই হোক, মন্দা পরবর্তী বৈশ্বিক পুনর্গঠনে চীন সবচেয়ে বড় শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আসবে

ফিরোজ আহমেদ : কয়েকদিন আগে প্রথম আলোতে ‘চীনের সমাপ্তি, শুরুটা তবে কার’ এই রকম একটা শিরোনাম দেখে ভড়কে গিয়েছিলাম। দুনিয়ার করোনা-উত্তর বিশ্বের কারখানা হিসেবে চীন তো বিগত, এবার কার আবির্ভাব হবে, সেটা ছিল লেখাটার আলোচনার বিষয়। ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, মেক্সিকো ইত্যাদি। তখনই ভেবেছিলাম, একটু তাড়াতাড়ি লেখাটা লিখে ফেলেছেন তারা। মহামারীটা দুনিয়াব্যাপী ছড়ায় কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করেননি, অপেক্ষা করেননি এই মহামারী সামলাতে চীনের সামাজিক ক্ষমতা কতখানি কার্যকর, তা দেখতে। চীনের হাজারো সমস্যা আছে, সত্যি। কিন্তু সামজিক ত্বরণের মাঝে থাকলে থাকলে একটা জাতি বহু সময়ে তার সঙ্কটকেও শক্তিতে পরিণত করতে পারে, সমাজকে রুপান্তরিত করে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একটা সমাজ মন্দীভূত হতে থাকলে সঙ্কটটা দীর্ঘ মেয়াদে তার ছাপ রাখে, আর বিশ্বমঞ্চেও তার গুরুত্ব লঘুতর হতে থাকে। বৈশ্বিক করোনা সঙ্কট শেষে চীন আরও বড় শক্তি হসেবে আবির্ভূত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের মত যে অবরোধ জারি করে ইরানের মত দেশে করোনা পরিস্থিতিকে অমানবিক করে তোলেনি, বরং পশ্চিমা দেশগুলোরও পাশে দাঁড়িয়েছে।
চীন থেকে সস্তা কারখানাগুলো এমনকি করোনা না থাকলেও বিদায় নিতে বাধ্য হতো, কারণ চীনের শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। মজুরি বৃদ্ধি পাওয়া সঙ্কট না, এইটা দেশটার অর্জন। মজুরি বৃদ্ধিকে সঙ্কট ভাবতে পারে যারা, সেই মুনাফাগন্ধীদেরও সমাজে দরকার, কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণেই রাখাটাই দরকার সমাজের বাকি সকলের বিকাশের স্বার্থে। কোরিয়ার মতো রাষ্ট্র কয়েক দশক পোষাক কারখানা চালিয়ে যে ত্বরণ অর্জন করেছিল, তা তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশ সেই একই পোষাক কারখানা চালিয়ে বিশ্বের প্রধান টাকা পাচারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বহু পিছনে থাকা ভিয়েতনামও আমাদের বহুগুণ সামনে আছে। এগুলোর কার্যকারণ অনুসন্ধান ছাড়া কার সমাপ্ত কার শুরু, সেই সব অনুমানে যাওয়া অর্থহীন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত