প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লিতে যা ঘটছে তা ‘দাঙ্গা’ নয়, রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট গেরুয়া সন্ত্রাসী আক্রমণ মুসলিম জনগোষ্ঠী তার প্রথম লক্ষ্যবস্ত

আলী রীয়াজ

দিল্লিতে যা ঘটছে তা ‘দাঙ্গা’ নয়, একে যারা দাঙ্গা বলছেন তারা ইচ্ছায় বা অজ্ঞতাবশত ভারতের গেরুয়া বাহিনীর ভাষ্যকার হচ্ছেন। একে ‘সিএএবিরোধী ও সমর্থকদের সংঘর্ষ’ বলতে আমি নারাজ। যা ঘটছে তা হচ্ছে রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট গেরুয়া সন্ত্রাসী আক্রমণÑ মুসলিম জনগোষ্ঠী তার প্রথম লক্ষ্যবস্ত, কিন্তু একমাত্র লক্ষ্যবস্ত নয়। আগামীতে অন্যরাও আক্রান্ত হবেন। লক্ষ্যবস্ত হচ্ছে বহুত্ববাদী ভারত। দিল্লিতে হামলা ও হত্যাকা- হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপের একটি। ৩৭০ ধারা বাতিল, এনআরসি, সিএএÑ এগুলো হচ্ছে সেই পদক্ষেপের অংশ, তারই ধারাবাহিকতায় ভারতের নাগরিকদের মধ্যে যারা বহুত্ববাদে বিশ্বাসী তাদের বিরুদ্ধে এখন সশস্ত্রদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুলিশ গেরুয়া বাহিনীর সঙ্গেই আছে। দিল্লির নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জিঘাংসায় মত্ত বিজেপি ও সংঘ পরিবার এখন দেখাতে চাইছে শক্তির প্রয়োগেই তারা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে। যেকোনো বাধাকে তারা বল দিয়ে মোকাবেলা করবে।
সারাদেশে গত নির্বাচনে পাওয়া সাঁইত্রিশ শতাংশ ভোটের জোর নয়, বিজেপি এখন আদর্শিক ফ্যানাটিকদের উপরেই নির্ভরশীল, তাদেরই লেলিয়ে দিয়েছে। দিল্লির কেজরিওয়াল প্রশাসনের ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত কয়েকমাসে ভারতের নাগরিকদের এক বড় অংশ যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, দিল্লিতে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকছেনÑ রাজপথে থাকছেন তাদের এই অসম সাহসিকতাকে শুভেচ্ছা। দিল্লিতে হত্যাকা-ের রক্তের দাগ লেগে আছে মোদীর হাতেÑ তাকে যারাই বুকে টেনে নিচ্ছেন, ট্রাম্পের মতো যারা তাকে জড়িয়ে ধরছেন/আগামীতে ধরবেন তাদেরও এই হত্যার দায় নিতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, এই লড়াই কেবল ভারতের নাগরিকদের নয়Ñ এর ভবিষ্যতের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকদের স্বার্থ জড়িত। ভারতে হিন্দুত্ববাদী মোদীর উত্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশের উপরে ভারতের আচরণের প্রভাব পড়েছে, পড়ছে এবং পড়তে থাকবে। সেই কারণেই এই লড়াইয়ের পক্ষে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে মোদী এবং সংঘ পরিবারের উপস্থতিতেই প্রতিবাদ জানানোর জন্য প্রস্ততি দরকার। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত