প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাবধান! পতেঙ্গার মিঠাপানিতে মিলল ক্ষতিকর আফ্রিকান জেব্রা মাছ

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন : চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় মিঠা পানির প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ পাওয়া গেছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আফ্রিকান জেব্রা সিক্লিড মাছ। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী পতেঙ্গা এলাকার এক জেলের কাছ থেকে ক্ষতিকর এই মাছের দুটি নমুনা সংগ্রহ করার পর এই তথ্য জানাজানি হয়। মাছটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন অ্যাকোয়ারিয়াম ফিসের দোকানে পাওয়া যায়। আগ্রাসী ও সর্বভূক প্রকৃতির এই মাছটি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া বিজ্ঞান মেলায় প্রদর্শনের জন্য মাছের নমুনা সংগ্রহ চলছিল। এরই অংশ হিসেবে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শতরুপা সুশীল, রিয়াদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শুভ পতেঙ্গা এলাকায় গেলে সেখানে ওই বিদেশি একোয়ারিয়াম মাছটির খোঁজ পান। পরে দেশীয় প্রাকৃতিক জলাশয়ে বহিরাগত এই মিঠা পানির মাছটি শনাক্ত করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. আরশাদ-উল-আলম।

মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Heterotilapia buttikoferi (Hubrecht, 1881)। পার্চিফর্মিস বর্গভুক্ত সিক্লিডি পরিবারের নবীন বয়সী মাছটির দেহ আয়তাকার ও পার্শ্বীয়ভাবে বেশ চাপা, গায়ে আটটি কালচে খাড়া ব্যান্ড আছে। প্রথম ব্যান্ডটি চোখ বরাবর মাথার উপর থেকে নিচের দিকে নেমে গেছে। শেষ দুটি ব্যান্ড লেজের গোড়ায়। গাঢ় ব্যান্ডসমূহ অন্তবর্তী অংশের চেয়ে প্রশস্ত এবং পৃষ্ঠপাখনা ও পায়ুপাখনায় বিস্তৃত। পুচ্ছপাখনায় একটি সরু অর্ধচন্দ্রাকার ব্যান্ড আছে। পুচ্ছপাখনার প্রান্ত সমান। বক্ষপাখনা বর্ণহীন। সিক্লিড পরিবারের বৈশিষ্ট্যসূচক চরিত্র একজোড়া নাসাছিদ্র দেখা যায়। পৃষ্ঠপাখনা সংযুক্ত। মুখ কিছুটা সংকোচন-প্রসারণক্ষম। চোখ তুলনামূলক বড়।

বিভিন্ন প্রকাশনার রেকর্ড থেকে জানা যায়, মাছটির কালো ডোরাগুলো তরুণ বয়সে সুস্পষ্ট থাকে। তবে বয়স বাড়ার সাথে ডোরাগুলি ফিকে হয়ে আসে। মাছটির সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৪০ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্ণবিন্যাস একই হওয়ায় ও অন্য কোন দৃশ্যমান পার্থক্য না থাকায় সাধারণ স্ত্রী-পুরুষ আলাদাভাবে চেনা যায় না। এরা সর্বভূক— খাবারের পছন্দ বেশ বিস্তৃত। জেব্রা তেলাপিয়া আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য পরিচিত।

মাছটির প্রাকৃতিক আবাস পশ্চিম আফ্রিকার গিনি-বিসাউ (গেবা এবং করুবল নদী) থেকে পশ্চিম লাইবেরিয়া (সেন্ট জন নদী) পর্যন্ত। বহিরাগত প্রজাতি হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা, হংকং এবং থাইল্যান্ডে এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সরকারি সিটি কলেজ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মিউজিয়ামে বর্তমানে মাছটি সংরক্ষিত আছে।

সর্বাধিক পঠিত