প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীন ভ্রমণের ব্যাপারে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠক আজ

যুগান্তর : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক গভীর। বাংলাদেশের বহুসংখ্যক মানুষ ব্যবসায়িক কাজে চীনে যান। কোনোভাবে ভাইরাসটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য আগামীকাল মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে চীনে ও চীন থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের জরুরি সতর্কতা গ্রহণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে কোনো রকম আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে। সভায় করোনাভাইরাসের ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা হয়। রোগটি বর্তমানে কতটি দেশে পৌঁছেছে এবং কতজন আক্রান্ত ও মারা গেছে, এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজ নেন। দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দরগুলোয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন। এ প্রসঙ্গে সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যসব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় জরুরি সভা করার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে সহমত ব্যক্ত করে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন।

সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা না-ও পড়তে পারে। যেহেতু চীনে বহুসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে, তারা সবাই এখন ফিরতে গিয়ে এই ভাইরাসের জীবাণু বহন করে দেশে নিয়ে এলে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কাজেই সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে চীনে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থগিতের উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

এদিকে সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস রোধে নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস রোধে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে কোনো বন্দর দিয়ে যাত্রী দেশে প্রবেশ করলে তাকে স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে সব জানা যাবে। রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাস রোধে আমরা জনসচেতনতার ব্যবস্থা করেছি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও ডেকেছি। যারা বিমানে করে আসবেন, তাদের একটা ফরম দেয়া হবে। একটি কার্ডও সঙ্গে নিয়ে যাবে। পরবর্তীকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে তাকে শনাক্ত করা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত