প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে রক্ষা

তৌহিদুর রহমান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে আসমা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।

নির্যাতিতার স্বামী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন ওই গ্রামের মৃত আরিফ সরকারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (শরীফ ডাক্তার), সাহেদ সরকার, জনি সরকার, শরীফুল ইসলামের স্ত্রী সীমা আক্তার। ঘটনার পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, চুরির অপবাদে আসমাকে রবিবার বিকেলে পাশের বাড়ির শরীফ ডাক্তারের বাড়িতে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে শরীফ মিয়ার স্ত্রী সীমা আক্তার ও তার ভাই শাহেদ গৃহবধূ আসমার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় লোহার রড দিয়ে ও বোতল দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যতন চালানো হয়। ওই সময় আসমা একাধিকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আসমার আর্ত চিৎকারে তার স্বামী নজরুল স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য নিকট আতœীয় মোসলেমকে দিয়ে ৯৯৯ ফোন করান। ফোন পেয়ে নবীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করান।

নির্যাতিতার স্বামী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শরীফ ডাক্তার ও তার ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এছাড়া শরীফ ডাক্তারের ভাই সাহেদ সরকার তার স্ত্রীকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিতেন। কিন্তু এতে আসমা রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে এই অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি শুধু নির্মমই নয়, একেবারেই অমানবিক। চুরির অপবাদ হলেও কেউ এমন বর্বর নির্যাতন চালাতে পারে না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত