প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট, পরীক্ষা এবং পরীক্ষার্থী

কাকন রেজা : ভোট পেছানোর দাবি উপেক্ষিত হওয়ার প্রধান অজুহাত হচ্ছে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষা। খুব ভালো কথা। শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ভাবনা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তবে প্রশ্ন হলো এসএসসি পরীক্ষার তিনদিন আগ পর্যন্ত এই যে মাইকিং, মিছিল-স্লোগান। দিনে-রাতে প্রার্থীদের লোকজনের দুয়ারে কড়ানাড়া, এসব কি পরীক্ষার পক্ষে যায়? পরীক্ষার প্রস্তুতিরত পরীক্ষার্থীদের সহায়ক হয়, হয় না। যদি মাসভর পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বারোটা বাজানো যায়, তবে একদিনে কী এমন ক্ষতি। মূলত পরীক্ষার্থীদের ভালোর জন্য হলে চিন্তাটা অন্যভাবে করা হতো। ঢাকা শহরে কি পরিমাণ পরীক্ষার্থী রয়েছে তার পরিসংখ্যান কি জানা আছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের? সম্ভবত না। থাকলে নির্বাচনের তারিখটা এভাবে হতো না। ঢাকা শহরে কতোজন হিন্দু শিক্ষার্থী আছে, তাকি জানা আছে তাদের? তাও সম্ভবত নয়। থাকলে তাদের ধর্মীয় আবেগের বিপরীতে এমন তারিখ নির্ধারণ করাটা হয়তো হতো না। মূলত এই চিন্তাগুলো জরুরি ছিলো। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, জরুরি চিন্তাগুলো করা হয়নি। কেন হয়নি এর নানা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। হতে পারে তা রাজনৈতিক। হতে পারে আগের নির্বাচনগুলোর ধারণায় নিরুত্তাপ নির্বাচনে তাপ সঞ্চারের জন্য। নির্বাচনটা আলোচনায় রাখা। হতে পারে এমন অনেক কিছুই। কিন্তু সব ব্যাখ্যার বড় ব্যাখা হলো শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য অসুবিধার কথা কেউ চিন্তা করেনি। প্রস্তুতি ভালো না হলে পরীক্ষা ভালো হয় না, এটা না জানার মতো কোনো বিষয় নয়। বরং এই ব্যাঘাত ঘটানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরীক্ষা একমাস পেছালেও কোনো সর্বনাশের ব্যাপার ঘটবে না। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না। মাধ্যমিকের এই পরীক্ষাটি হলো একজন শিক্ষার্থীর জন্য জীবনের প্রবেশদ্বার। এই পরীক্ষার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। সুতরাং এমন পরীক্ষা নির্বিঘœ করা সংশ্লিষ্টদের জন্য ফরজ ছিলো। অথচ সেই ফরজ কাজটিই করা হয়ে উঠেনি। উঠলে শুধু এমন তারিখ নির্ধারণ নয়, ‘আই এম এ জিপিএ ফাইভ’ ধরনের দৃশ্যচিত্রের মঞ্চায়ন হতো না। হতো না নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কন্টকিত করার আয়োজনও। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত