প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মঘাতী ট্রানজিট

ইনকিলাব : চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় মালামাল পরিবহন করা হবে। আসছে জানুয়ারি মাসে তা ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ শুরু হচ্ছে। বাস্তবে তা শুরু হয় সাড়ে চার বছর আগেই। এটি ‘ভারত থেকে ভারতীয় পণ্যের ভারতমুখী’ পরিবহন। এতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির কোনো শর্ত নেই। দেশের দুই প্রধান বন্দর ভারতকে উদার হাতে বিলিয়ে দেবে সেবা। ভারতের ট্রানজিটের ব্যবহার উপযোগী করে বিশেষত মংলা বন্দরের অবকাঠামো ও যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ডজনের মতো প্রকল্প ত্বরিৎ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়। পূর্বে রামগড়, ফেনী, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, সিলেট থেকে শুরু করে দিনাজপুরসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উভয় বন্দরের সঙ্গে সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সহজ করা হচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, বন্দর-শিপিং-কাস্টমস-পরিবহন বিশেষজ্ঞমহল এহেন অভিনব পণ্য পরিবহন পদ্ধতিটিকে বলছেন, ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট, কানেকটিভিটি অথবা করিডোর। একেক সময় একেক নামে। পদ্ধতি যাই হোক তার বিবরণ, শর্তাবলী, লাভালাভ কী তাও এখন পর্যন্ত অজানা অধ্যায়। বলা হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের অভাবী ও ভূমিবেষ্টিত রাজ্যগুলোতে মালামাল পরিবহন করা হবে (প্রথমত আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়) ভারতের অপরাপর অঞ্চল থেকে। এখন কলকাতা বন্দর দিয়ে দীর্ঘ ঘুরপথে সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে দেশটির। অথচ অতীত থেকেই সেভেন সিস্টার হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদিত হরেক ধরনের শিল্পপণ্য, সেবাপণ্য ইত্যাদির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ভারতের শুল্ক ও অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশের উৎকৃষ্টমানের পণ্য সেখানে ঢুকতে পারেনা। সেসব রাজ্যের জনগণও বঞ্চিত হচ্ছে সুলভে বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে না পেরে।

বিগত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লী সফরকালে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সম্পর্কিত এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) চুক্তি স্বাক্ষর হয়। গত ৫ ডিসেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক তার বাস্তবায়নের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। চুক্তি অনুসারে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দরে ভারতীয় পণ্য পৌঁছানোর পর তা সড়ক, রেল ও নদী পথে আখাউড়া হয়ে আগরতলা, তামাবিল হয়ে মেঘালয়, শেওলা হয়ে আসাম ও বিবিরবাজার হয়ে ত্রিপুরায় যাবে। দীর্ঘদিন দিল্লীর পীড়াপড়ির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের উদ্দেশে বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৫ সালে প্রথম সমঝোতা চুক্তি করে (৬ ও ৭ জুন’১৫ইং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে)। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতমুখী পণ্যের ট্রানজিট পরীক্ষামূলক প্রথম চালু হয় ২ জুন ’১৫ইং ‘এমভি ইরাবতী স্টার’ নামক জাহাজ বন্দরের ১৩ নম্বর জেটিতে ভিড়ে, ভারতের তিনটি বন্দরগামী পণ্যভর্তি ৯২টি কন্টেইনার খালাসের মধ্যদিয়ে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বন্দর ব্যবহারকারী স্টেক হোল্ডারগণের অভিমত, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে বিনামাসুলে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে একতরফা সার্ভিস দিতে গিয়ে বন্দর-শিপিং সেক্টর পড়ে যাবে চরম হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতিতে। জাতীয় অর্থনীতির আকার বাড়ছে। প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী। এরফলে দেশে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও বাড়ছে। সমগ্র দেশের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম সামাল দিতে গিয়েই চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের এখন হিমশিম অবস্থা। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে সার্বক্ষণিক কর্মব্যস্ত (২৪/৭) সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর বছরের অধিকাংশ সময়েই কন্টেইনার জট ও জাহাজজটের মুখোমুখি হচ্ছে। উভয় বন্দরের সক্ষমতা, নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি, দক্ষতা এখনও বিশ্বমানের নিরিখে অপ্রতুল। চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের বহুল প্রত্যাশিত পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এখনও হয়নি। কাস্টমসের সার্ভার ডাউনের কারণে মাঝেমধ্যে ব্যবসায়ীরা বিড়ম্বনায় পড়েন। তাছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর থেকে শুরু করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না অর্থনৈতিক জোন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া দ্বীপাঞ্চলসহ কক্সবাজারজুড়ে শিল্প ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার সমপরিমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ চলছে এগিয়ে। ব্যাপক এ উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রয়োজন পূরণে প্রস্তুতি অপর্যাপ্ত। ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা বিলিয়ে দেওয়ার আগে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনই জরুরি। এমনিতেই বছরজুড়ে পণ্যের চাপে দুই বন্দরের ঠাঁই নেই। এ অবস্থায় সময়ের প্রয়োজন উপেক্ষা করে ভারতকে বন্দরে ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দিতে গিয়ে কার্যত আত্মঘাতি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন শঙ্কা ও সতর্কবাণী বন্দর-শিপিং সংশ্লিষ্টদের।

বিশেষজ্ঞ ও বন্দর স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের মতো বিশাল একটি দেশের মালামালের বোঝা বহনের মতো আকার-আয়তন, সক্ষমতা চট্টগ্রাম কিংবা মংলা বন্দরের আদৌ নেই। প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম হাজার বছরের নিরাপদ পোতাশ্রয়। এটি প্রাকৃতিকভাবেই একটি ফিডার পোর্ট। অর্থাৎ জোয়ার-ভাটার সময়ের উপর নির্ভর করে, তাও সতর্ক পাইলটিংয়ের মাধ্যমে বন্দরে জাহাজগুলো আসা-যাওয়া করতে পারে। সর্বোচ্চ ৯ মিটারের জাহাজ ভিড়তে পারে। গত দীর্ঘ দুই দশকেও বন্দরে নতুন কোনো জেটি নির্মিত হয়নি। এ অবস্থায় বিদ্যমান ১৯টি ছোট-বড় জেটি-বার্থ দিয়েই ভারতের মালামাল খালাস ও পরিবহন করতে হবে। এ ধরনের অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা-সীমাবদ্ধতার মাঝে ভারতের নিয়মিত ট্রানজিট পণ্য পরিবহন করতে যাওয়া ঝুঁকি, চাপ ও জটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া সমীচীন হবে না। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর নিছক একটি মার্চেন্ট পোর্ট নয়। এটি বাংলাদেশ এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মহাবন্দর। জ্বালানি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেকগুলো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এখানে গড়ে উঠেছে।

তাছাড়া দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের প্রতিবছর কন্টেইনারসহ কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রবৃদ্ধির হার বার্ষিক ৯ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। এ বন্দর নিরবচ্ছিন্ন মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পবহর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের গৌরব এ প্রতিষ্ঠানের। শুধু তাই নয় বন্দরের তহবিলে এবং কারিগরি সহায়তা ও গবেষণায় তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা গড়ে উঠেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন গভীর সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক আমদানি-রফতানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্রমাগত বেড়ে গিয়ে এখন ৩০ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়ে গেছে।

অথচ এক্ষেত্রে ইতিপূর্বে বন্দর-শিপিং বিশেষজ্ঞদের প্রক্ষেপণ (পূর্বাভাস) ছিল আজকের বাস্তবতার চেয়ে কম তথা অসাড়। আঙ্কটাড নীতিমালাসহ বিশে^র শিপিং পোর্ট সার্কেলের নীতি অনুসারে কোনো সমুদ্র বন্দর সাবলীলভাবে সচলের জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ ইয়ার্ডসহ অবকাঠামো সুবিধা খালি রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বছরজুড়ে পণ্যভারে টইটম্বুর চট্টগ্রাম বন্দরে খালি জায়গা তেমন নেই। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও চট্টগ্রাম পূর্ণাঙ্গ একটি কন্টেইনার পোর্ট হিসেবে বহির্বিশে^ সুনাম কুড়িয়ে চলেছে। লয়েডস বিশ^সেরা বন্দরের তালিকায়ও সম্মানজনক অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দরের। বিশেষজ্ঞমহল মনে করেন, সুনাম অর্জন যেমন কঠিন ধরে রাখা আরও কঠিন। ভারতের জন্য ট্রানজিট দেয়া হলে বন্দরের কী অবস্থা দাঁড়াবে তার জন্য আগেই দূরদর্শী ও সময়োচিত চিন্তাভাবনা অপরিহার্য।

এ প্রসঙ্গে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি প্রবীণ শিল্পপতি মীর্জা আবু মনসুর গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ভারতীয় মালামাল ওঠানামা করতে হলে বন্দরে আলাদা জেটি, বার্থ নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিদ্যমান জেটিগুলোতে আমাদের পণ্য ও ভারতীয় পণ্য হ্যান্ডলিং করতে গেলে তালগোল পাকিয়ে যাবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে জটের যে বেসামাল অবস্থা সেখানে একমাত্র আল্লাহ জানেন ভারতের মালামালও ট্রানজিট করা হলে কী অবস্থা দাঁড়ায়। আমরা আশা করি সরকার বিষয়টি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করবেন। ভারতীয় পণ্য পরিবহনের বিষয়টি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে বড়জোড় ছয় মাস দেখা দরকার। এরজন্য সরকারের পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি ও সজাগ থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় বিরাট সমস্যা রূপ ধারণ করবে। এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। ভারতকে সুবিধা দিতে হলে বন্দরের সুবিধা কতদূর আছে তা দেখতে হবে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মু. সিকান্দার খান ইনকিলাবকে বলেন, সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতের পণ্য পরিবহনের বিষয়টা একটা বড় ডিলের অংশ হিসেবে করা হচ্ছে কিনা তা আমি নিজেও জানি না। এর বিনিময়ে আমরা কী পাচ্ছি কী পাচ্ছি না সে সম্পর্কে খোলাসা হওয়া প্রয়োজন। তার নিশ্চয়তা চাই। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত হারে লেভি, ট্যাক্স আমাদের প্রাপ্তি কী নিশ্চিত হয়েছে? আমাদের পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরের যে চাপ রয়েছে তার সাথে ট্রানজিটের বাড়তি চাপ কী আমরা সামাল দিতে পারব? চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের ক্যাপাসিটি উদ্বৃত্ত যদি থাকে তাহলে আমরা তা ব্যবহার করতে পারি। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রেখে যেন তা (ট্রানজিট সুবিধা প্রদান) করা না হয়।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি ও চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হলে ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট ব্যবস্থাটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ভারতের জন্য ট্রানজিটের বিনিময়ে ট্যারিফ নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন। উভয় দেশের সমান লাভের ভিত্তিতে অর্থাৎ ‘উইন উইন সিসুয়েশনে’ ট্রানজিট ব্যবস্থা দেয়া যেতে পারে। তবে সেই সঙ্গে আমাদের দেশের নিজস্ব আমদানি-রফতানি প্রতিনিয়ত যেভাবে বাড়ছে তার জন্য বর্তমানে বন্দরের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট কিংবা কানেকটিভিটি যে নামেই বলি না কেন নীতিগতভাবে ২০১৯ সালে এসে একেক দেশ পরস্পরের ভূমি, বন্দর, নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৃথিবীর কোথাও ‘না’ করার পরিবেশ নেই। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমার দেশের স্বার্থটি উপযুক্তভাবে রক্ষা হচ্ছে না বলেই ধারণা জন্মেছে। আশা করি একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার অধিকার ও প্রাপ্য আর্থিক লাভ, স্বার্থাদি উপস্থাপন করতে লজ্জা পাবে না কিংবা ভীত হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ট্রানজিটের বিনিময়ে কী কী লাভ হবে একথাগুলো ৯ বা ১০ বছর আগে যেভাবে বলা হতো, সরকার দলীয় লোকদের মুখে জিগির ছিল- ‘ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হবে’। নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার দেশের স্বার্থে কোনো আপোস আশা করি না।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত