প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ বছর ধরে ভিক্ষা করেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও পাল্টায়নি মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়ার স্ত্রী জামিনা খাতুনের ভাগ্য। বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান তা দিয়েই অর্ধাহারে-অনাহারে চলে জীবন।
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়ায় ভাগ্যে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। কাপাসিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে টোক ইউনিয়নের পাচুয়া গ্রামে ছোট্ট একটি জীর্ণ টিনের ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন জামিনা খাতুন (৬৫)। মুক্তিযোদ্ধা স্বামী তোতা মিয়ার মৃত্যু হয় ৩৫ বছর আগে।

সরকারি সহযোগিতার জন্য তিনি বার বার বিভিন্ন মহলে ধর্না দিলেও কেউ তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতাতো দূরের কথা, সরকারি কোনো ভাতাও জোটেনি তার কপালে। একদিন ভিক্ষায় বের হতে না পারলে অভুক্ত থাকতে হয় সারা দিন। বিধবা জামিনা খাতুন জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ভাতার জন্য গেলে আলাদা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা রয়েছে বলে তাড়িয়ে দেয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে তাকে। স্থানীয় শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, তোতা মিয়ার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা পদ্মায় ক্রমিক নং ১৫০ এবং মেঘনায় ক্রমিক নং ১৩১৩। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৫ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট মুক্তিযোদ্ধার তথ্যে বর্ণিত ১০৯৪৭ পৃষ্ঠায় তার গেজেট নং ২৭১৬। মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য তাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই গিয়েছি সবাই শুধু আশ^াস দিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলুর রশিদ মেল্লা বলেন, আমরা কাগজপত্র জমা নিয়েছি। জামিনা খাতুনের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত