প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশুর দাঁতের গর্তের অন্যতম কারণ দন্তক্ষয়, বললেন ডা.শিহাব

শাহীন খন্দকার : শিশুর দাঁতের গর্ত কেন হয় এবং মুক্তি পাওয়ার উপায় সর্ম্পকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ডেন্টাল কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি এন্ড এন্ডোডনটিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহম্মদ শিহাব বলেন, দাঁতের মধ্যে নানা কারণে গর্ত হতে পারে। যেমন দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ, দাঁত ভেঙে গিয়ে গর্ত হওয়া বা রুট ক্যানেল চিকিৎসার জন্য গর্ত হওয়া। দাঁতের মধ্যে গর্ত বা ক্যাভিটি হলে তাতে ময়লা, খাদ্যকণা ইত্যাদি জমে, সংক্রামণ হয়। দাঁতে ব্যথা করে ও শিরশির অনুভূতি শুরু হয়। শিশুদের এই গর্ত বা ক্যাভিটি হলে তারা ব্যথায় কষ্ট পায় ও কিছু খেতে গেলেই দাঁত শিরশির করে ওঠে।

দাঁতের গর্তের অন্যতম কারণ দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ। ডেন্টাল ক্যারিজ প্রাথমিক অবস্থায় খুবই ছোট কালো গর্তের মতো দেখায়। এ অবস্থায় কোনো ব্যথা বা অসুবিধা না থাকায় শিশুরা বুঝতে পারে না যে গর্ত তৈরি হচ্ছে। জটিলতা হওয়ার পরই কেবল ধরা পড়ে। তবে দাঁত ভেঙে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী সেটা বুঝতে পারে। এ ছাড়া রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর রোগী যদি পরসেলিন ক্রাউন বা মুকুট পরে না নেয়, তবে গর্ত বেড়ে যায়। পরে রুট ক্যানেল এবং ভেতরের জিনিসপত্র সব বেরিয়ে আসে।

চিকিৎসা সর্ম্পকে শিহাব বলেন, দাঁতের গর্তের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র দেরি না করে শূন্য জায়গাটা ভর্তি বা ফিলিং করে নেওয়া উচিত। কারণ, ডেন্টাল ক্যারিজ যদি ধীরে ধীরে ডেন্টিন থেকে আরো গভীরে অর্থাৎ পাল্প চেম্বার পর্যন্ত চলে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। চিকিৎসা ব্যবস্থাও জটিল হয়ে পড়ে। ভাঙা দাঁতকে আজকাল ফিলিং ম্যাটেরিয়াল বা লাইট কিউর দিয়ে সুন্দরভাবে পূরণ করা যায়, যা দেখতে অবিকল স্বাভাবিক রঙের হয়। রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা দাঁতের ক্রাউন বা মুকুট বসাতে দেরি করা উচিত নয়।

ডা. শিহাব বলেন, ছয় মাস থেকে ২/৩ বছর পর্যন্ত যে ২০ টি দাঁত ওঠে, তাকে বলে দুধ দাঁত। দুধ দাঁত ছয় বছর থেকে শুরু করে ১২ বছরের মধ্যে পরে গিয়ে নতুন আরেক সেট দাঁত ওঠে একে বলে স্থায়ী দাঁত। দুধ দাঁত শিশুর খাওয়া, কথা বলা, হাসা, এমনকি আত্মবিশ্বাসের জন্য দরকার।

দুধ দাঁত সময় মত না পড়লে পরবর্তী স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল ও নষ্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আর স্থায়ী দাঁত একবার পড়লে আর নতুন দাঁত ওঠে না। সেক্ষেত্রে সারাজীবন কৃত্রিম দাঁত ব্যবহার করতে হয়। তাই নীচের বিষয়গুলো বিশেষ ভাবে মেনে চলা উচিত বলে তিনি বলেন, দুধ দাঁতে সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসা করিয়ে নিন। শিশুর দাঁত ও মুখের যত্ন নিতে হবে। বাচ্চার বয়স ৭ হলেই একজন ঙৎঃযড়ফড়হঃরংঃ এর নিকট আঁকাবাঁকা দাঁতের বিষয়ে পরামর্শ নিন। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ান। এই জাতীয় খাবার খেলে সাথে সাথে ব্রাশ করিয়ে দিন। দাঁতের যত্নে পরামর্শসমূহ যেমন, দাঁত ওঠার আগ পর্যন্ত এক টুকরো নরম সুতি কাপড় অথবা গজ পানিতে ভিজিয়ে দিনে দুই বার (রাতে শোয়ার আগে এবং দিনে যে কোনো সময় একবার খাবার পর) শিশুর মাড়ি আলতো করে পরিষ্কার করার পরামর্শদেন। এতে মাড়িতে থাকা জীবাণু সৃষ্ট নানা রোগের আক্রমণ থেকে শিশুকে রক্ষা করবে। তবে জন্মের পর থেকেই মাড়ি ও দাঁতের যত্ন শিশুর সুস্থ দাঁত ও মাড়ি গঠনে সাহায্য করে। নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ শিশুর দাঁতের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত