প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসামে নগ্ন প্রতিবাদ, ত্রিপুরায় ইন্টারনেট বন্ধ

রাশিদ রিয়াজ : পরিস্থিতি যেন ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে আসামে। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল। গুয়াহাটির বিজেপি সাংসদ কুইন ওঝার বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়ে বাড়ির উঠোনেই তাঁর কুশপুতুল পোড়ায় জনতা। নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এই বিলের প্রতিবাদে নাগাড়ে বনধ ডেকেছে। সেই বনধের দ্বিতীয় দিনে গোলঘাট, তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড়ের মতো জেলাগুলিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। প্রতিবাদে আসাম জুড়ে ডাকা বনধে সর্বাত্মক সাড়াও মিলেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে গুয়াহাটি, ডিব্রুগড়-সহ অসমের বিভিন্ন জায়গায় ছিল দোকানপাট বন্ধ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভেও শামিল হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এমনকী বহু মানুষ উলঙ্গ হয়েও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে মানুষ।

এদিকে ত্রিপুরা সরকারের তরফে এক চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির নিরিখে মঙ্গলবার দুপুর দুটো থেকে এসএমএস ও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে। প্রেস মেসেজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হবে। যদিও মুখে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব দাবি করেছেন, রাজ্যে বনধের কোনও প্রভাবই পড়েনি। সোমবার লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। আর সেই বিলের প্রতিবাদেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি। আসাম যেমন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে, তেমনি বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে বিজেপি শাসিত আরেক রাজ্য ত্রিপুরাতেও। সেই বিক্ষোভের জেরেই আগামী ৪৮ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ও এসএমএস সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে বিপ্লব দেব সরকার। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ত্রিপুরার আদিবাসীরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন এবং এই বিলের ফলে তাদের কোনও ক্ষতি হবে না। তবে পরিস্থিতি যে মোটেই সরকারের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার নয়, তা সরকারের নির্দেশেই স্পষ্ট।

ত্রিপুরার যখন এমন পরিস্থিতি, তখন ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে আসামের পরিস্থিতি। নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এই বিলের প্রতিবাদে নাগাড়ে বনধ ডেকেছে। সেই বনধের দ্বিতীয় দিনে গোলঘাট, তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড়ের মতো জেলাগুলিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। মণিপুর ও অরুণাচলেও চলছে বিক্ষোভ। মিছিল বের করে দুটি ছাত্র সংগঠন। মিছিলে হাঁটেন বহু মানুষও। তবে পরিস্থিতি যে এমন হাতের বাইরে যেতে পারে, তার আশঙ্কা করেছিলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সোমবারই সংসদে ওই বিল পেশের সময় তিনি বারবার সতর্ক থাকার কথা বলে জানিয়েছিলেন, স্থানীয় মানুষেরই স্বার্থ দেখা হবে, তাই এই বিক্ষোভ দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে বিক্ষোভের পথে ছেড়ে বেরিয়ে আসারও আবেদন করেন তিনি। কিন্তু শাহের কথা যে কেউ কানে তোলেননি, সেটা এদিনের বিক্ষোভ থেকেই স্পষ্ট।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত