প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবজি গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষ্ণনগর 

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ভোর থেকেই ছেলে-বুড়ো সব বয়সের ছুটোছুটি শুরু হয় সবজি ক্ষেতের দিকে। কেউ সবজি ক্ষেতের পরিচর্যায় আবার কেউবা সবজি বাজারজাত করার কাজ করছেন।  বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবজি ক্রয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন পাইকাররা। তাই বিক্রির জন্য সবজি প্রস্তুত করে রাখতে হয়। আবার কেউ কেউ স্থানীয় বাজারেও উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে থাকেন। সবজি-ই যেনো তাদের জীবিকার একমাএ উৎস। এমনি মনোমুক্ত কর দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউননিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে। এখানকার বেশিরভাগ কৃষকরা সবজি চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ভরা মৌসুম হওয়ায় ফুলকপি, বাধাকপি, মূলা, লালশাক, টমেটো, শিম, লাউ ইত্যাদি নানান জাতের দেশীয় সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি গ্রামের চাষী ও তাদের পরিবারের লোকেরা। এখানকার মাটি ফলন ভালো হওয়াতে প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজির আবাদ। কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা অথচ সবজি চাষ করেন না, এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

ফলশ্রুতিতে গ্রামটির নাম কৃষ্ণনগর হলেও "সবজি গ্রাম " নামেই গ্রামটির ব্যাপক পরিচিতি। খরচ তুলনায় লাভের পরিমাণ বেশী হওয়ায় এই গ্রামের লোকজন ক্রমান্বয়ে ধানের বদলে সবজি চাষের দিকেই ঝুঁকছেন। তাই প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। বর্তমানে শীতকাালীন সবজির ভরা মৌসুম হওয়ায় দিগন্তজোড়া মাঠে
শুধু সবজি আর সবজিই চোখে পড়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ যেন এক সবুজের সমারোহ।সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় সবজি চাষি  আবদুল মান্নান ও আবদুল জলিলসহ

বেশ কয়েকজন সাথে তারা বলেন,  জমিতে ফুলকপি, মূলা, লালশাক, টমেটোসহ অন্যান্য জাতের সবজির আবাদ করছি। ১০ হাজার ফুলকপির চারা লাগিয়েছি। সবজি গাছের অবস্থা এখন পযর্ন্ত খুবই ভালো রয়েছে। প্রতিটি গাছে একটি করে ফুলকপি ফলন হয়। অন্যদিকে মূলা, লালশাক, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু
হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মাথা পিছু খরচ বাদে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলেই আশা করছি।` তিনি আরো বলেন, ওই জমিতে যদি ধান আবাদ করা হতো তাহলে ৩০ হাজার টাকার ধানও পাওয়া যেতো না। তাই ধান ছেড়ে এখন সবজি আবাদ করছি। তারা আরো বলেন, `বিগত ১৫ বছর ধরে আমি
সবজি চাষ করছি। এখানকার মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সেচ সুবিধা ভালো, পানির অভাব নেই। বছরের বেশিরভাগ সময়ই সবজি চাষ করা যায়।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, `কৃষ্ণনগর গ্রাম সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ করে আসছেন। এসব এলাকার কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজির আবাদে হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ।
তৌহিদুর রহমান নিটল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত