প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫০ শতাংশ দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই স্থিতিশিল হবে বি্দ্যুতের দাম

তন্নীমা আক্তার : বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বিরোধীতা করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের ভোক্তারা। তারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখীবাজারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব মানি না। এ মুহুর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সবকিছুতে এর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন। কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন। বিদ্যুত খাতের ৫০ শতাংশ দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে তারা মনে করেন।

এখন গড়ে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ৪ টাকা ৮৭ পয়সা। গত চারদিন কমিশনের শুনানিতে বিইআরসি সুপারিশ করেছে এবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যেতে পারে ৯৩ পয়সা। অর্থাৎ কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ মেনে নিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দর হবে ৫ টাকা ৮০ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন চার্জ আরো ৬ দশমিক ৯২ ভাগ মূল্য সমন্বয় করা হলে দাম আরো বাড়বে। এই অর্থের পুরোটা পাস-থ্রু হিসেবে খুচরা পর্যায়ে পাঠানোর সঙ্গে যোগ হবে বিতরণ চার্জ। এই বিতরণ চার্জ যোগ করেই কমিশন খুচরা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত শুনানিতে আসা প্রস্তাব এবং মূল্যায়ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুচরা বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম হতে পারে ৭ টাকা ২৬ পয়সার মতো। যদিও সরকার ভর্তুকির অংক ঠিক না করা পর্যন্ত এর সঠিক পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।

কমিশন চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম শুনানিতে বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কমিশন মূল্যহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ শুনানির পর বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তবে কখনো কখনো পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। ২০১০ সালের ১লা মার্চ গ্রাহক পর্যায় ৬ দশমিক ৭ ভাগ বেড়েছিল। সেবার পাইকারিতে বাড়েনি। ২০১১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি গ্রাহক পর্যায় ৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১১ ভাগ বেড়েছিলো। ২০১১ সালের ১লা আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে বাড়েনি। তবে পাইকারিতে ৬ দশমিক ৬৬ ভাগ বাড়ানো হয়। ২০১১ সালের ১লা ডিসেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ১৩ দশমিক ২৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১৬ দশমিক ৭৯ ভাগ বাড়ানো হয়। ২০১২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১৭ ভাগ, ২০১৫ সালের ১লা আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে ২ দশমিক ৯৩ ভাগ বাড়ানো হয়। সেবার পাইকারিতে বাড়েনি। এরপর সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১লা ডিসেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৩ ভাগ বাড়ানো হয়। সেই সময়ও পাইকারিতে বাড়েনি। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো-না বাড়ানো সরকারের ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কতটা ভর্তুকি দিতে সম্মত হবে, তার হিসাবে দামের অংক নির্ধারণ করা হবে। তবে উৎপাদন পর্যায়ের অর্ধেক ভর্তুকি দিলেও প্রস্তাবের অর্ধেক বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হবে।

এদিকে, বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনে বিইআরসি গণশুনানিকে অবৈধ উল্লেখ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। শুনানির শেষ দিন টিসিবি ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণশুনানি নামটি শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু দুঃখের বিষয় গণশুনানিতে জনগণের জন্য কোনো সুখবর থাকে না। এই গণশুনানিকে অবৈধ উল্লেখ করে তারা বলেন, গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বারবার তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। এটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে তারা মনে করেন। সম্পাদনা : ইয়াসিন আরাফাত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত