প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালয়েশিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের হাতে ৫৬ বাংলাদেশি আটক, জানুয়ারি থেকে চিরুনি অভিযান

শেখ সেকেন্দার আলী, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ায় লাইসেন্স এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ড্রাইভিংয়ের অপরাধে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ২৩৮ জনকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

গত সোমবার থেকে তিন দিনের ঐ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক পুলিশ কুয়ালালামপুর। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করলেও এখন থেকে ইমিগ্ৰেশন বাহিনীর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ ও অভিযান পরিচালনা করবে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে সড়কে তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ২শত ৮৫ জনের কাগজপত্র চেক করে ট্রাফিক পুলিশ। এসময় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে ২৩৪ জনকে গ্ৰেপ্তার করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৪, মায়ানমারের ৫৮, ইন্দোনেশিয়ার ৫৭, পাকিস্তানের ২৩ ও ফিলিপাইনের ২১ জন। বাকিরা সবাই অন্যান্য দেশের নাগরিক।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে ইমিগ্ৰেশন প্রধান দাতুক খায়রুল দাজামি দাউদ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মাসের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা। জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়া জুড়ে পরিচালিত হবে সাঁড়াশি অভিযান। ইমিগ্ৰেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের আটকের ম্যাধমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কারন অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশি অভিবাসিদের কারনে আইনশৃংখলার অবনতি হতে পারে। তাই অবৈধ অভিবাসী আটকে আমরা কোন আপস করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, আমারা তাদের সুযোগ দিয়েছি দেশে ফেরার জন্য। তারপর ও যারা এদেশে অবস্থান করবে তাদের জন্য আর কোনো সুযোগ নেই। উল্লেখ্য চলতি বছরের আগস্ট থেকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ব্যাক ফর গুড কর্মসূচি ঘোষণা করে মালয়েশিয়া সরকার। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ছেড়েছে বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় লাখ অভিবাসী। যার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সংসারে হাসি ফোটাতে বৈধ এবং অবৈধ পন্থায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশিরা। এক প্রকার প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে মালয়েশিয়া ত্যাগ করেছে অবৈধ বাংলাদেশিরা। এজেন্টকে লক্ষাধিক টাকা দিলেও ভিসা মেলেনি মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া বৈধ হওয়ার সুযোগে। দীর্ঘদিন বৈধ হওয়ার আশায় মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে ভিসা হবে বলে আশায় বুক বাঁধলেও, শেষ পর্যন্ত সে দেশের সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধতা হারায় প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি। বৈধতা না পেয়ে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন বৈধতা পাবেন তারা। পাসপোর্ট এজেন্টের কাছে জমা থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই তারা এজেন্টকে টাকা দিতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিসা তো দুরের কথা, পাসপোর্ট পর্যন্ত ফেরত পায়নি বহু বাংলাদেশি। কথা গুলো বলছিলেন নরসিংদীর সোহরাব হোসেন।

মালয়েশিয়ার কলকারখানা খ্যাত পেনাং শহরের বাংলাদেশি জিল্লু এই প্রতিবেদককে বলেন, আমিন নামে এক বাংলাদেশির কোম্পানিতে বৈধ হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পরেও বৈধতা পাইনি শতাধিক বাংলাদেশি। কিন্তু বৈধতা না পেলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৮০ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে। অবশেষে সরকারের দেওয়া ব্যাগ ফর গুডের আওতায় দেশে ফিরছি আমরা।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকার। দেশটির সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৭ জন বাংলাদেশি আবেদন করেন। তবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ হতে আবেদন করেন প্রায় ৬ লাখ। শেষ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ পান ২ লাখ ৮০ হাজার ১১০ জন।অনুসন্ধানে জানা যায়, দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে অবৈধ অভিবাসী হয়ে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন অনেক বাংলাদেশি। আবার অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আর দেশে ফেরেন না, অনেকে স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে কলেজে যান না, ফলে দেশটিতে প্রবেশের পরেই অবৈধ হয়ে যান তারা। ইমিগ্রেশন পুলিশের কড়া অভিযানে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে গ্রেপ্তার হয়ে মালয়েশিয়ার জেলে জীবন পার করছেন বহু বাংলাদেশি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত