প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সালেহ্ বিপ্লব : পরিবেশের আরো অবনতি রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্যারিস চুক্তির সব ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সকল বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের সাধারণ আলোচনায় বলেন, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যর্থতার ফলাফল সকল দেশের ওপর সমানভাবে, বিশেষ করে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী তাদের ওপর বর্তাবে। বাসস

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের কপ-২৫ স্পেনের বৃহত্তম এক্সিভিশন কমপ্লেক্স ও ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ফেরিয়া ডি মাদ্রিদে গতকাল সকালে শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনের পর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির কাঠামো ও বাস্তবায়নের আলোকে সমতা অথবা স্বচ্ছতার ধারণা একটি মৌলিক ইস্যু, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সহযোগিতায় এই চুক্তির সুফল অর্জিত হতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সভ্যতার ক্ষতি করছে এবং পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। এটি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের অস্তিত্বের জন্য এখন হুমকি সৃষ্টি করছে। আমরা আমাদের সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংসদে সম্প্রতি জলবায়ু ঝুঁকির বর্তমান অবস্থা ঘোষণার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্যান্য পার্লামেন্টের প্রতি জরুরি আহবান জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতির তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ২০১৬ সালে ছিলো তিনগুণ। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাংলাদেশে অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কক্সবাজারে একটি পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জীবন-জীবিকার ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, তাই আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন কী ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তার একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। কিন্তু আমি সতর্ক করে দিতে চাই যে, সহিষ্ণুতা ও অভিযোজনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের উচিত হবে শিল্প পূর্ব পর্যায়ের পূর্বের অবস্থায় অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার উদ্ভাবনী অভিযোজন ও প্রশমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু স্থিতিশীল দেশে পরিণত হয়েছে এবং সফলভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যান্য দেশের জন্য যা অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত