হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরের মুন্সিবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডাকাতির দুই দিন পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে ফিলিং স্টেশনটির মালিকের ছেলে আব্দুল করিম মিয়া বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা নং-৬০, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী দায়ের করা এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
এর আগে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ৩৯ মিনিট থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে এই সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত মুখোশধারী প্রায় ১১ জন ডাকাত পাম্পে প্রবেশ করে কর্মরত অয়েলম্যান সিদ্দিক মিয়া ও চিত্ত দাসকে জোরপূর্বক হাত বেঁধে মারধর করে।
একপর্যায়ে ডাকাতরা গ্রিলের তালা ভেঙে ক্যাশিয়ারের কক্ষে প্রবেশ করে ক্যাশ বাক্স ভাঙচুর করে সেখানে থাকা আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। পাশাপাশি সহকারী ম্যানেজার সোহেল আহমেদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও তার মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া অয়েলম্যান সিদ্দিক মিয়ার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ডাকাতরা নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তবে মামলার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।”
এদিকে, এই ডাকাতির ঘটনায় পেট্রোল পাম্পসহ আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।