প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটলো ১০ হাজার আম গাছ

ডেস্ক রিপোর্ট : সকালে কৃষকেরা বাগান এলাকায় গিয়ে বিঘার পর বিঘা জমির কাটা গাছের দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তাদের বুকফাটা আর্তনাদে গ্রামবাসীরাও কেঁদে ফেলেন । নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ৬৩ বিঘা জমির ১০ হাজার আমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হঠাৎ পথে বসার উপক্রম হয়েছেন ১২ জন আমচাষী। ঢাকা ট্রিবিউন

এলাকাবাসী জানায়, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে চার শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আমবাগান। যতদূর চোখ যায় শুধুই আমের বাগান। গ্রামের শতাধিক আমচাষি ৪ বছর ধরে সন্তানের মতো করে লালন করে বড় করে তুলেছে এই বাগানগুলোর আম গাছ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তের দল উপজেলার জামালপুর গ্রামের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে বিশাল মাঠে রোপিত ১২ জন কৃষকের ৬৩ বিঘা জমির আমের বাগান কেটে তছনছ করে দিয়েছে। খবর পেয়ে বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে কৃষকেরা বাগান এলাকায় গিয়ে বিঘার পর বিঘা জমির কাটা গাছের দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তাদের বুকফাটা আর্তনাদে গ্রামবাসীরাও কেঁদে ফেলেন।

১১ বিঘা জমির ওপর চার বছর আগে আমবাগান গড়ে তোলেন জামালপুর গ্রামের মুক্তার হোসেন। তিনি জানান, গত মৌসুমে আমগাছগুলোতে ভালো ফল ধরেছিল। আগামী মৌসুমে পরিপূর্ণভাবে গাছে আম আসতো। ৬৩ বিঘা জমির প্রায় ১০ হাজার আমগাছ থেকে এই ১২ জন আমচাষী আগামী মৌসুমে প্রায় কোটি টাকার আম বিক্রির স্বপ্ন দেখছিলেন। একই কথা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষী ফিরোজ হোসেন, সুবল কুমার, আফজাল হোসেন ও হাফিজ উদ্দিন।

এদিকে গাছ কাটার সংবাদ জানাজানি হলে বুধবার শত শত উৎসুক জনতা ওই বাগান এলাকায় ভিড় জমায়। কে বা কারা এসব গাছ কেটে ফেলেছে এ বিষয়ে বাগান মালিকদের সাথে কথা হলে তারা কিছুই অনুমান করতে পারছেন না বলে জানান। তারা জানান, তাদের কারো সাথে বিরোধ নেই। বিবাদও নেই। হঠাৎ করে বিশাল ক্ষতি সাধন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার দুপুরে সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কল্যান চৌধুরী ও সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “কে বা কারা রাতের আঁধারে গাছ কেটে রেখে গেছে তা খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বিবাদ বা পারিবারিক কোনো ঘটনা থেকে গাছ কাটার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। মূলত এখানে দুর্বৃত্তদের টার্গেট ছিল একজন। দুর্বৃত্তদের যাতে সহজে চিহ্নিত করা না যায় সেজন্য তারা ১২ জনের বাগান কেটে রেখে গেছে। এ ব্যাপারে সাপাহার থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।”

রাতের আঁধারে বাগান হতে অসংখ্য আমগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় উপজেলার আমচাষীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার শত শত আমচাষীরা জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত