প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্ররাজনীতি কেন দরকার? ছাত্র রাজনীতি থাকলে আবরারের মতো অসংখ্য দেশপ্রেমিকের জন্ম হবে

 

মোস্তফা ফিরোজ ; আগামী ১৫ অক্টোবরের ভেতরে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষর্থীরা বুয়েট প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানিয়েছে। এ দাবির প্রতি আমার আবেগপূর্ণ সমর্থন আছে। কিন্তু যৌক্তিক নয়। যারা সন্ত্রাস করছে তাদের রাজনীতি বা সংগঠন নিষিদ্ধ হতে পারে। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি কেন? ছাত্র রাজনীতি থাকলে বরং আবরারের মতো অসংখ্য দেশপ্রেমিকের জন্ম হবে। যারা আগামীতে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু বুয়েটে যে সাধারণ ছাত্ররা আন্দোলন করছে, তারা এখন গভীর আবেগ ও শোকে আচ্ছন্ন। তাদের কাছে ছাত্র রাজনীতি মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর হাতছানি। তাদের কাছে ছাত্র রাজনীতি মানেই ছাত্রলীগের রাজনীতি। আর সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যে রাজনীতি চলছে তা হচ্ছে মাস্তানি, সন্ত্রাসী, গু-ামি, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অপকর্ম। ছাত্রলীগকে ঘিরে এমন রাজনীতি কেবল বুয়েট কেন সাধারণ মানুষও এই নোংরা রাজনীতি সমর্থন করে না।

এজন্য ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এখন একটি জনপ্রিয় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিবেকবান কোনো মানুষ চাইবে না তার সন্তান ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্রলীগ করুক। কারণ এটি এখন আর কোনো পরিবারের কাছেই গর্ব বা অহংকারের বিষয় নয়। আবরার খুন হওয়ায় দেশের বিরাট একটা সর্বনাশ হলো। এখন যে পরিবারের ন্যূনতম সামর্থ্য থাকবে তারা চাইবে তার সন্তানকে পড়াশোনা করতে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে। বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে যদি জীবনের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে আর কোথায় আছে? আবরার হত্যাকা- দেশের অভিভাবক সমাজকে আরও নিরাপত্তাহীন করে তুললো। অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতির চূড়ান্ত সর্বনাশ হলো। এখন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার পরিবেশ ও জীবনের নিরাপত্তা চাইতে মাঠে নেমে বলতে পারে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করো। পড়াশোনা করতে এসে যদি তাদের হলে হলে টর্চার সেলে ঢুকতে হয়, মিছিলে মিটিংয়ে নামতে বাধ্য করা হয়, বড় ভাইদের সালাম না দেয়ার অপরাধে চড়ধাপ্পড় খেতে হয়, নিজের মতো করে করে সংগঠন করা বা ফেসবুকে লিখতে না পারা যায়, সবসময় যদি জিম্মি হয়ে সময় কাটাতে হয়, তাহলে এমন ছাত্র রাজনীতি কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এসব অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই আজ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে।

কিন্তু এখানে একটি বড় ভুল হয়ে যাচ্ছে। মাথা ব্যথা বলে মাথা কেটে ফেলা যৌক্তিক নয়। দাবিটা হতে পারতো ছাত্র রাজনীতির নামে যারা মাস্তানি সন্ত্রাসী কর্মকা- করবে তাদের রাজনীতি বা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। সত্যিকার শুদ্ধ আদর্শিক ছাত্র রাজনীতির চর্চা না থাকলে ছাত্ররা কখনোই তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে না। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও পরমতসহিষ্ণুতার আদর্শিক দর্শন। সুতরাং বুয়েট ক্যাম্পাসে সবাই যাতে স্বাধীনভাবে রাজনীতি ও সংগঠন করার অধিকার পায় সেই দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হবার দরকার ছিলো। কিন্তু আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় সবাই এখন এমনভাবে আবেগতাড়িত যে, তারা মনে করছে ছাত্র রাজনীতিই সব সর্বনাশের মূল। সুতরাং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের মধ্য দিয়েই আপাতত তাদের জীবন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাইছে। এমন পরিস্থিতির জন্য বুয়েটের শিক্ষার্থীরা দায়ী নন। দায় হলো অপরাজনীতির। দায়ী হলো জাতীয় নেতৃত্ব। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ