প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি ও অনলাইনে ভুল তথ্য শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর অন্যতম’

তাসকিনা ইয়াসমিন : শিশুদের জন্য ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির অন্যতম কয়েকটি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট, তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান ধারা এবং অনলাইনে ভুল তথ্য প্রাপ্তি। গতকাল বুধবার প্রকাশিত ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক খোলা চিঠিতে কথা জানান।

ফোর লিখেছেন, এবং আপনাদের প্রজন্ম, আজকের শিশুরা নতুন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আপনাদের বাবা-মায়েদের কাছে অকল্পনীয় ছিল। জলবায়ু আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি বদলে যাচ্ছে। বৈষম্য আরও বাড়ছে। বিশ্ব নিয়ে আমাদের উপলব্ধি বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি। আর আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবার অভিবাসন করছে। শৈশব বদলে গেছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।

সংঘাত বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সময়েই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন সহিংস লড়াই বা দুর্যোগে আক্রান্ত দেশগুলোতে বসবাস করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করে চিঠিতে বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি ও বাতাসে বিষাক্ততা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও আকস্মিক বন্যা সবকিছুই এই সংকটের অংশ এবং অসামঞ্জস্যহীনভাবে দরিদ্রতম, সবচেয়ে অরক্ষিত শিশুরাই এসবে আক্রান্ত হচ্ছে।

চিঠিতে ফোর লিখেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে, আরও পরিবেশবান্ধব কৃষি, শিল্প ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস বাড়ানোর পেছনে বিনিয়োগ করতে সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।
চিঠিতে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, শিশুদের বেশিরভাগই বেড়ে উঠবে ভুল তথ্য মিশ্রিত ডিজিটাল পরিবেশের বাসিন্দা হিসেবে। উদাহরণস্বরূপ, তথাকথিত ‘ডিপ ফেইক’ প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে সহজেই অডিও ও ভিডিও কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্য নকল তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কৌশল ব্যবহার করে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অনলাইনে ভুল তথ্য ইতিমধ্যে শিশুদের অনলাইনে যৌন হয়রানি, অমর্যাদা এবং অন্যান্য ধরনের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। …তরুণ জনগোষ্ঠী যাতে বুঝতে পারে যে অনলাইনে তারা কাকে এবং কোন বিষয়টিকে বিশ্বাস করতে পারে, সেজন্য আমাদের উচিত তাদের যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে শুরু করা, যাতে তারা সক্রিয় ও সম্পৃক্ত নাগরিকে পরিণত হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সতর্ক করে চিঠিতে বলা হয়েছে, মানসিক অসুস্থতা ঘিরে যত কলঙ্ক বা কুসংস্কার রয়েছে এগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে, যাতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় এবং সহায়তা প্রদান করা যায়।

ফোর লিখেছেন, আজকের শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠী জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে নেতৃত্ব গ্রহণ করছে এবং আপনার চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে শিখতে ও আকৃতি দিতে আপনাকে ক্ষমতায়িত করছে।

শিশু অধিকার সনদের ৩০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ