প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থ আত্মসাত মামলায় ফারইস্ট কো-অপারেটিভ চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : চার বছর ধরে পলাতক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ ২৮ মামলার আসামি ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) চেয়ারম্যান এবং মালিক শামীম কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ। তার বিরুদ্ধে ৩শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানায়, শামীম মূলত ধর্মকে পুঁজি করে কতিপয় ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনকে আল্লাহর বানী শুনিয়ে এবং পবিত্র কোরান শরীফসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের কথা বলে সুসজ্জিত অফিসে দাওয়াত দিয়ে তাদের সমিতিতে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, গত ৯ জুলাই শামীমকে সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি নোহা মাইক্রোবাস, দুটি মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ২৯টি জমির দলিল, ডিভিআর ও ৪টি চেক বই জব্দ করা হয়েছে।

মোল্যা নজরুল জানান, শামীম কবির ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (এফআইসিএল) নামে একটি সমিতির আবেদন করে কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়  থেকে অনুমোদন নেন। এরপর তার নিকটাত্মীয়সহ স্থানীয় কিছু যুবকদের নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট বাজারে একটি অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করেন। পরে সমিতিটি মুন্সিরহাট অফিসের নিবন্ধন সংশোধন করে থানা থেকে জেলা পর্যায়ে এবং পরে চট্টগ্রাম বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় শাখা অফিসের অনুমোদন নেন। তিনি মূলত ধর্মকে পুঁজি করে তাদের সমিতিতে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করতেন। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে নিজেকে ধর্মের বরপুত্র হিসেবে দাবি করে, বিনিয়োগকৃত প্রতি এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা, কোন কোন ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা হারে মুনাফা দেয়ার কথা বলে লিফলেট প্রচার করেন এবং পত্র-পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অধিক সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহ করেন।

মোল্যা নজরুল বলেন, শুরুর কয়েক বছর ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওয়াদা অনুযায়ী মুনাফা পরিশোধ করে গ্রাহক সংগ্রহ করেন। কয়েক বছর লাভজনক মুনাফা পেয়ে সাধারণ মানুষ নিজের বহু কষ্টে অর্জিত টাকা শামীমের প্রতিষ্ঠানে জমা রাখতে শুরু করেন। বেশী মুনাফার আশায় কেউ কেউ অন্য জায়গা থেকে টাকা পয়সা ধার করে এনে, জমি জমা বিক্রি করে সমিতিতে টাকা রাখতেন। কোনো কোনো সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী পেনশনের টাকাও দ্বিগুণ-তিনগুণ করার প্রলোভনে সমিতিতে জমা রাখেন। বিভিন্ন রকম ছলচাতুরি করে শামীম ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহ করেন। শামীমসহ মামলার অপরাপর আসামিদের সহায়তায় প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকদের ৩শ’ কোটি টাকা আত্মসাত করে ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর শামীম কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। পরে প্রচার করতে থাকে যে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে।

গ্রেপ্তার শামীমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মোল্যা নজরুল জানান, আত্মসাৎ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তার নিজ গ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ী,  চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদরের দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, কক্সবাজারের উখিয়া, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্লট, ফ্লাটসহ বিপুল পরিমাণ ভু-সম্পত্তি ক্রয় করেছেন শামীম। যার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার শতাংশ বা ৪০ একর। যা নিজ নামে কেনার পর স্থানান্তর/রুপান্তরের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালে শামীমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুদক ১৩টি মামলা দায়ের করে। যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। সম্পাদনা: সুতীর্থ বড়াল

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ