প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একমাত্র জাতীয় পার্টি স্বকীয় রাজনীতি করছে জানালেন জিএম কাদের

ইউসুফ বাচ্চু :  জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, ‘বড় গাছের নিচে ছোট গাছ কত দিন বাঁচবে! হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভবিষ্যৎ কী হবে? পার্টির পদোন্নতি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন। আমি আগেই আপনাদের সেসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি।’ দলটির বিগত দু’দিনের সাংগঠনিক সভায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্ন যাতে আর না করতে হয় সেজন্য এসব কথা বলেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
বুধবার (২৬ জুন) মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাপার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, আপনাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একমাত্র জাতীয় পার্টি স্বকীয় রাজনীতি করছে। অন্যদের তেমন অবস্থান নেই। এটা ঠিক যে, দেশে জোটের রাজনীতি চলছে। আমরাই কোনো সময়ে জোটের নেতৃত্ব দিতে পারব। আমাদের সামনে সেই সুদিন আসছে। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে, এরশাদের অবর্তমানে পার্টির কী হবে। এরশাদ পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছেন, বুধবার (২৬ জুন) সকালে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। খোদা না করুক, তার কিছু হয়ে গেলে কী হবে? আমি বলি এরশাদের নির্দেশিত পথে, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে জাতীয় পার্টি চলবে।
জাপা নেতা বলেন, আমি পারিবারিক পরিচয়ে দলের নেতৃত্ব দিতে চাই না। আপনারা না চাইলে আমি নেতৃত্ব দেব না। আমি চাই এই পার্টির মালিক হবেন আপনারা সকলে। আমি পার্টির সকল কার্যক্রমে আপনাদের সম্পৃক্ত করতে চাই। আমি ক্ষমতার লোভী নই, অর্থলোভী নই। দলকে কাউকে বিক্রি করতে দেওয়া যাবে না। কেউ করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে। ‘হ্যাঁ, এরশাদের অবর্তমানে কিছু সমস্যা হতে পারে। এখন তার নামে যা হচ্ছে, তখন সেটা হবে না, অর্জন করে নিতে হবে।’
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে উত্তর হচ্ছে- কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া কোথাও এটা হচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে সব জায়গায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় কমিটি হচ্ছে পার্টির চেয়ারম্যানের টিম, তিনি যাকে ভালো মনে করবেন তাকে নেবেন। কাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করবেন, সেটা তার বিষয়। এভাবেই কাউন্সিলে তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। যেমন প্রধানমন্ত্রী কাকে মন্ত্রিসভায় নেবেন, এটা তার বিষয়। কেউ বাদ গেলে তার জায়গায় কাকে নেবেন সেটাও তার বিষয়। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয় নির্বাচনকালীন সময় যারা ছিলেন তাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল না পরিস্থিতির কারণে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ থাকবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আসবে, তাদের জায়গা দিতে হবে। তবে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হবে না। আপনারা মতামত দিলে এক নেতার একপদ নীতি ফলো করতে পারি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত