প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সাড়ম্বরে উদযাপন করবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হচ্ছে ২০২১ সালের ২৬ মার্চে। আর স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তী ‘রাজনৈতিকভাবে উদযাপন’ করার পরিকল্পনা চলছে বিএনপিতে। বিষয়টিকে সামনে রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবেও ঢেলে সাজানো হবে। ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাইকমান্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। উদযাপনের ধরন-ব্যাপ্তি নিয়ে চলছে নানামুখী চিন্তাও। দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ পরিকল্পনার বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলা ট্রিবিউন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতি করি। বিএনপি একজন বীর উত্তমের দল। এ অবস্থায় আবশ্যিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, দেশের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। সে বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো।’

বিএনপির দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি পালনে জোরেশোরে তৎপরতার পাশাপাশি বিএনপিও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকতে চায় না। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রয়েছে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ত্যাগ ও সংগ্রামের বিষয়টিও উপস্থাপন করা হবে। জিয়াউর রহমানের সময় এবং চারবার দেশ-শাসনসহ মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবার গর্ব—বিষয়টি বিএনপিকে সামনে আনতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার। এটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আমি মনে করি বিএনপি নেতাদের উচিত গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা।’

বিএনপির প্রভাবশালী একাধিক নেতা জানান, গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে উদযাপনের সময়সীমা, অনুষ্ঠান, সুভ্যেনির প্রকাশসহ যাবতীয় প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটিসহ অন্তত ২০টি উপ-কমিটি করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে এজেন্ডা হিসেবে কোনও আলোচনা হয়নি। সদস্যদের পরবর্তী বৈঠকে তা প্রাথমিকভাবে টেবিলে উঠতে পারে, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন প্রভাবশালী একজন নেতা। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত রাজনীতিতে অবস্থান আরও পোক্ত করতেই শীর্ষ নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কীভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবো, সে বিষয়ে এখনও আলোচনা শুরু করিনি। কোন প্রক্রিয়ায় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে—এটা সময়মতো আমরা জানিয়ে দেবো।’

বিএনপির দায়িত্বশীল পক্ষগুলো বলছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মূল স্পিরিট হিসেবে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটিকে সামনে রাখা হবে। মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে জামায়াত-প্রভাবিত নেতাদের কাছে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার চিন্তা থেকেই জিয়াউর রহমানের এ প্রবন্ধটিকেই গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনতে চাইছে বিএনপির প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিবেদিত পক্ষটি। বিশেষ করে, দেশ ও দেশের বাইরে জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকার যে সমালোচনা ও অস্বস্তি রয়েছে বিএনপিকে ঘিরে, তা থেকে বেরুনোর একটি প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে বিষয়টিকে।

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, জিয়াউর রহমানের এই প্রবন্ধটি ‘দৈনিক বাংলা’য় ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ এবং পরে ১৯৭৪ সালের স্বাধীনতা দিবসে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত হয়। ওই লেখার এক জায়গায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম। কিন্তু তৃতীয় কোনও ব্যক্তিকে তা জানালাম না।’ শেষ দিকে এসে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলাম।’ তিনি আরও লিখেছেন , ‘তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ। ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কোনো-দি-ন-না।’ সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমানের এই অবস্থান আবারও বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে আনা হবে।

এই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলছেন, ‘‘দলের পক্ষ থেকে আমি এখনও কিছু জানতে পারিনি। তবে দেশ ও জাতি হিসেবে ২০২১ সাল ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’র উদযাপন অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। এ উপলক্ষটি তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আগামী দিনের সঠিক পথ এবং সত্যবিশ্লেষণ করতে প্রেরণা জোগাবে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রাষ্ট্র ও দেশ পরিচালনা করেছেন, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্মোহভাবে উঠে আসবে। জাতির জন্য তা পাথেয় হয়ে উঠবে।’

দলীয়ভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সম্পর্কে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় জনপ্রতিনিধিত্বমূলক এবং জনভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক দল। দুই দলেরই প্রধান নেতাদের সরাসরি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল। সে বিবেচনায় ক্ষমতাসীন দলের সরকারি কর্মসূচির বাইরে জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির কাছ থেকেও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে কর্মসূচি প্রত্যাশা করে জাতি। বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীকসহ কিংবদন্তী অনেক মুক্তিযোদ্ধা উভয় দলেই আছেন।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেই জাতীয় ঐক্য জনগণ প্রত্যাশা করে। জনগণের চাওয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা জনগণের ভোটাধিকার তথা সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাসম্পন্ন আধুনিক বাংলাদেশ।’

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউবে বিশেষ ভিডিও প্রকাশনা করার চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ দলের অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক সৃষ্টিশীল বিভিন্ন কাজও করা হবে। বিশেষভাবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন অনেকেই পরবর্তী সময়ে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের কাজ ও অর্জনগুলোকে সম্মানিত করা হবে বিশেষ আয়োজনে মধ্য দিয়ে।

জানা গেছে, সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন অন্তত এক মাস হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ-বিদেশের স্বজন-সুহৃদদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি একটি সেক্টরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারই দল বিএনপি। এই দলের বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বামী যেমন সমরে সংগ্রামে ছিলেন, তেমনি দুই সন্তানকে নিয়ে খালেদা জিয়াও ত্যাগের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন ।’ খালেদা জিয়ার এই ত্যাগের কথা সুবর্ণজয়ন্তীতে উঠে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত