প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশ্নফাঁস মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করেছে সিআইডি, ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট আসামি ১২৫ জন

সুজন কৈরী : দেড় বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁস মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আরো প্রায় ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্ত গুছিয়ে আনা হয়েছে। শিগগিরই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। কয়েকহাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো আদালতে জমা দেয়া হবে।

দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার শুরু ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। ওই রাতে গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া কিছু তথ্যের সূত্র ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে অভিযান চালিয়ে মামুন ও রানা নামে দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাদের দেয়া তথ্যে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে গ্রেফতার করা হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে সিআইডি কর্মকর্তারা জানতে পারেন, চক্রের সদস্যরা পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রিন্টিং প্রেস থেকে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করতো। পর পর দুই বছর (২০১৫ এবং ২০১৬) ফাঁস করা প্রশ্ন নিয়ে সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার একটি বাসায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছিল তারা। চক্রের মাস্টারমাইন্ড ছিল নাটোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলোৎপাটন করে সিআইডি। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে মূলহোতাসহ মোট চক্রের ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। যাদের মধ্যে ৪৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, মূলত দুই ভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অন্যটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রæত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে। প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁসের পুরো চক্র চিহ্নিত হলেও ডিজিটাল ডিভাইস চক্রটিকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই চক্রটিকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, মূলহোতা ইব্রাহীম, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং তাজুল ইসলামকে। গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, এই মামলাটির তদন্ত ছিল সুবিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এই কার্যক্রমে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরাও বিশেষ ভ‚মিকা পালন করেছেন। সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় সমাজ থেকে প্রশ্নফাঁসের ব্যধি দূর করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, গত দেড় বছরে সিআইডির টানা অভিযান এবং একের পর এক আসামী গ্রেফতারের ফলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি-এইচএসসিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। সামনের দিনগুলোতেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সিআইডির বিশেষ নজরদারী থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রের মূলহোতাদের অঢেল অবৈধ অর্থ-সম্পদের খবর পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাৎক্ষনিক তদন্তে প্রায় ২০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে ইতোমধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মানিলন্ডারিং মামলাও করেছে সিআইডি।

যাদের নামে অভিযোগপত্র :

মো. ইব্র্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুদ রহমান তাজুল, মো. রিমন হোসেন, মো. মহিউদ্দিন রানা, মো. আইয়ুব আলী বাধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মামুন মিয়া, অসিম বিশ্বাস, মো. অনোয়ার হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টি এম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, মো. আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান ইসামী, বনি ইসরাইল, মো. মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, মো. বায়জিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, মো. আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আব্দুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মো. মশিউর রহমান সমীর, মো. আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম স¤্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন পৃথক, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, মো. ইছাহাক আলী ইছা, মো. আব্দুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, মো. আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রনয় পান্ডে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, মো. শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, মো. রাকিবুল হাসান, এম. ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা, ফাতেমা আক্তার তামান্না, নওশীন আফরিন মিথিলা, আমরিন আলম জুটি, সুবহা লিয়ানা তালুকদার, মো. মোহাইমিনুল রায়হান ফারুক, সাফায়েতে নূর সাইয়ারা নোশিন, মো. মাসুদ রানা, ইখতেখার আলম জিসান, মো. রাকিব হাসান, মো. খালিদ হাসান, আজলান শাহ ফাহাদ, সৌভিক সরকার, মো. রিজন আহমদ পাঠান, মাহবুব আলম সিদ্দিকী সম্রাট, মো. হাসিবুর রশিদ, মোছা. আফসানা নওরিন ঋতু, মো. মারুফ হাসান খান, মো. তৌহিদুল হাসান আকাশ, শাহাৎ আল ফেরদৌস ফাহিম, আয়েশা আক্তার তামান্না, ফাতেমা তুজ জোহরা মীম, শ্বাষত কুমার ঘোষ শুভ, মো. রাসেল আলী, রাজীবুল ইসলাম রাজীব, মো. আবু মাসুম, জান্নাত সুলতানা, জিএম রাফসান কবির, সাগর সাহা, মো. সাদেকুল ইসলাম সুমন, মো. আব্দুল্লাহ, মো. খাইরুজ্জামান সরকার সুজন, মো. শাহেদ আহমেদ, মুহাইমিনুল ইসলাম মাসুদ, আশরাফুল আলম, মো. হাসিবুুর রহমান রুবেল এবং মো. মাকসুদুর রহমান শুভ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত