প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর্মকর্তাদের জন্য নির্বাচনী পদক চালু করছে ইসি

তানজিনা তানিন : প্রশাসন ক্যাডার ও পুলিশ ক্যাডারের মতো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কৃত করতে এ পদক চালু করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত খসড়া নির্বাচনী পদক নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর পহেলা মার্চ ভোটার দিবসে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মনোনীত ইসির কমপক্ষে পাঁচজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে স্বর্ণপদক দেয়া হবে। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ের তিনজন ও ইসি সচিবালয়ের দু’জন কর্মকর্তা এ পদক পাবেন। যুগান্তর

পদকের মান হবে ২২ ক্যারটের ১৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকা ও সম্মাননাপত্র। পদকপ্রাপ্তরা তাদের নামের শেষে ‘ইএ’ (ইলেকট্রোরাল অ্যাওয়ার্ডি) টাইটেল যুক্ত করতে পারবেন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনসহ অন্য সব নির্বাচন আয়োজন করে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা প্রদান করে। এ ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এসব কাজে যেসব কর্মকর্তা উদ্ভাবনী কাজের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন, তাদের এ পদক দেয়া হবে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়বে।

নির্বাচন কমিশনের অধীন কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা কার্যালয় রয়েছে। এসব কার্যালয় থেকে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজের গতি বাড়াতে নির্বাচনী পদক প্রবর্তন করা হচ্ছে।

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরভিত্তিক কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে পদক দেয়া হবে। প্রতিবছর পহেলা মার্চ ভোটার দিবসে নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে এ পদক তুলে দেয়া হবে। চলতি বছর প্রথমবারের মতো সারা দেশে ভোটার দিবস উদ্যাপন করা হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি ছিলেন।

পদক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫টি বিষয় বিবেচনা করা হবে। সেগুলো হচ্ছে কাজের মান, কর্মসম্পাদনে দক্ষতা ও শুদ্ধাচারের প্রতিফলন, সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা, দায়িত্ব পালনে বিশেষ কৃতিত্ব, সেবা প্রদানে নতুন নতুন ধারণার উদ্ভাবন এবং আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রতিপালন। আরও যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে সেগুলো হচ্ছে- নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা বৃদ্ধি, প্রশাসন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার মান ও সেবা গ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎকর্ষ সাধন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম রোধে নেয়া কার্যক্রম, বিরোধ নিষ্পত্তিতে দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব কার্যালয় গড়তে আন্তরিকতা।

নীতিমালায় পদক প্রবর্তনের তিনটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- শুদ্ধচার, সততা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে জনমুখী নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় উৎকর্ষ সাধনের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি উন্নয়নে দক্ষতার মূল্যায়ন এবং জনবান্ধব কার্যক্রমকে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিতকরণ।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত