প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ও একজন সাইলেন্ট কিলারের গল্প

আক্তারুজ্জামান : দেখতে দেখতে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর। যা বাংলাদেশের জন্য ষষ্ঠ আসর। এবারের আগে মোট ৫বার ক্রিকেটের বিশ্ব ময়দানে খেলেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু গত ৫ আসরে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছে মাত্র দু’বার। সেই দুটির মালিক আবার একজন। তিনি হলেন সাইলেন্ট কিলার কিংবা আনসাং হিরো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিশ্বকাপের আগে তাকে নিয়েই আজকের গল্প।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনের কথা বলতে গেলেই তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস কিংবা সাব্বির রহমানের নাম আসে। যার নাম আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলে যায় তিনি হলেন আমাদের গল্পের নায়ক রিয়াদ। যিনি গত ২০১৫ বিশ্বকাপেই দুটি শতক হাঁকিয়ে বাংলাদেশের শূন্যস্থানটা পূরণ করেন।

ব্যাটিং লাইনে তার নাম না এলেও তিনি বারবার নেপথ্য নায়ক হিসেবে ধরেছেন বাংলাদেশ দলের হাল। বিপর্যয়ে পড়া দলকে টেনে তুলেছেন নিরাপদ তরীতে। যার সর্বশেষ উদাহরণ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ও নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে ঐতিহাসিক হারানোর ম্যাচ।

এই মাহমুদউল্লাহর জন্ম ১৯৮৬ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি ময়মনসিংহে। ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও সবগুলো ফরম্যাটে নিজের একটা আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও পার্ট টাইম বোলার হিসেবে বাংলাদেশ একাদশের অপরিহার্য একজনে পরিণত হয়েছেন। লাল-সবুজের তিন ফরম্যাটেই তার নাম যেন অবশ্যই থাকতে হবে। পঞ্চপাÐবের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম ইনজুরিতে ভোগেন।

২০০৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কলম্বোতে অভিষেক হয় রিয়াদের। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাকে। ধীরে ধীরে খেলেছেন ১৭৫টি ওয়ানডে, ৪৫টি টেস্ট ও ৭৬টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। ব্যাটে-বলে ও ফিল্ডিংয়ে বারবার নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বারবার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে ৩৪ গড়ে ৩৭৫৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৭৬টি উইকেট নিয়েছেন। সেই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে ৫৯ বার প্রকিপক্ষের ক্যাচ নিয়েছেন।

অভিষেকের ৭ বছর পর পেয়েছেন ক্যারিয়ারের শতকের দেখা। আর পাবেনই কিভাবে? ব্যাটিংয়ে নামেন ৬ নম্বরে। তবুও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোট শতকের দেখা পেয়েছেন ৩বার। যার মধ্যে দুটিই আবার বিশ্বকাপের মতো আসরে।

গত বিশ্বকাপে একটি ছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরেকটি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গ্রæপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করেছিলেন ১০৮ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১২৮। এরপর বাকি শতকটি পেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের দিন।

তিন সেঞ্চুরির তিনটিই আইসিসির বড় আসরে। যা দেখে সহজেই বোঝা যায় এই মাহমুদউল্লাহ সবসময় বড় ম্যাচে বড় নায়কের ভূমিকা পালন করেন। এবারের আসরেও তার দিকে তাকিয়ে থাকবে দেশের ১৮ কোটি ভক্ত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ