প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের সহোযোগিতায় বোমাবাজ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে

জাহিদুর রহমান : চলতি বছরের ২৬ জানুযারি গভীর রাতে যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি কাজি নাবিল আহমেদের বাস ভবন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদের আবাসিক হোটেল জাবির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাকলাদার ফিলিং ষ্টেশন, চাকলাদারের চাচাচো ভাই তহিদুল ইসলাম চাকলাদার ফন্টুর কাঠালতলার বাস ভবন, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সাল খানের ঘোপের বাস ভবন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লালের রায়পাড়ার বাস ভবন ও যুবলীগ নেতা রাজিবুলের শহরের কারবালা রোডের বাস ভবন, শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল আলম মিন্টু বারান্দিপাড়ার বাস ভবন ও ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের বাস ভবনের সামনে বোমা হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এসেছে। কোতয়ালি থানা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় কোটি টাকা রফার মাধ্যমে বোমাবাজ সন্ত্রাীরা এখন জনসম্মুখে এসেছে বলে জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়।

যশোর সদর আসনের এমপি কাজি নাবিল আহম্মেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ শাহিন চাকলাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৯ টি স্থানে ১২ টি বোমার বোমার বিষ্ফোরনের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এস আই শাহিদুল আলমকে। আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয় ১২ টি বোমার কৌটা ও অবিষ্ফোরিত বোমা। এঘটনায় রাসেল নামে এক যুবককে আটক করা হয়। রাসেল ১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেয়। জবান বন্দিতে সে বোমা হামলার কথা স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দেয়। এরপর পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে বোমা হামলাকারিদের সনাক্ত করে। বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শহর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মেহেবুব রহমান ম্যানসেলকে শহরের রায় পাড়ার বাড়ি থেকে পুলিশ আটক করে পায়ে গুলি করে। ম্যানসেলের মতো শহরের শীর্ষ আরো কয়েক সন্ত্রাসীর বাড়ি পুলিশ ওই রাতে হানা দেয়। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে আটক করতে পারেনি। তাদের পরিনতিও ম্যানসেলের মতে হবার কথা। পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। কেউ আবার দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। এঘটনার পর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই চার মাস পর বোমা হামলার সাথে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসেছে। আর তাদের প্রকাশ্যে আনার নেপথ্যে সহোযোগিতা করেছে কোতয়ালি থানার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

অবশ্য যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক শীর্ষ সন্ত্রাসী বোমা বাজদের প্রকাশ্যে আনার বিরোধীতা করলেও তাতে কোন কাজ হয়নি বলে সূত্রটি দাবি করেছে। সূত্র গুলি বলেছে, কোতয়ালি থানা পুলিশের শীর্ষকর্তা বোমাবাজদের প্রকাশ্যে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তদবির করেছে। আর এ তদবির বানিজ্যে রফা হয়েছে প্রায় কোটি টাকায়। বিষয়টি নিয়ে যশোরের রাজনৈতিক, সামজিক,ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে জোরে শোরে। পাশাপাশি চাপা ক্ষোভ ও বিরাজ করছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি বোমাবাজ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একের পর এক অপরাধ সংঘঠিত করে পুলিশের সহোযোগিতায় টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যাবে। তাহলে এরা কি বিচারের আওতায় আসবে না। পুলিশ এদেরকে আটক করবে না ?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত