প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমবঙ্গে বামদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব

মোরশেদ শফিউল হাসান : ভারতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপিই যে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসছে, তা নিয়ে আমার মনে প্রথম থেকেই কিছুমাত্র সংশয়-সন্দেহ ছিলো না। সংসদে দলের মোট আসন সংখ্যা ও প্রাপ্ত ভোটের হারের কিছু হ্রাস-বৃদ্ধি হয়তো ঘটতে পারে, তবে দল হিসাবে কংগ্রেস বা আর কেউ যে তার কাছাকাছি ভিড়তে পারবে না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। ফলে ভারতের ভোট বা ভোটের ফলাফল নিয়ে এবারে আমার কোনো বাড়তি আগ্রহ বা কৌতূহল ছিলো না।  ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণ সম্পর্কে আমার কিছু মত-মন্তব্য আমি এখানে আগেও লিপিবদ্ধ করেছি। যার দু-একটি সম্প্রতি প্রকাশিত আমার ‘হাওয়ার গায়ে লেখাজোখা : দহনকালের দিনলিপি’ বইয়ে সংকলিত হয়েছে।

এবারের বিজেপির বিজয় সম্ভাবনার পক্ষেও আমার যুক্তিগুলো আমি হয়তো আগামীতে কখনো একটু বিশদভাবেই তুলে ধরবো। তবে এবারের ভারতীয় লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে যে সত্যটি বেরিয়ে এলো তাহলো সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিকে মোকাবেলা করার মতো কোনো দল বা জোট এই মুহূর্তে ভারতে নেই। নেহেরু, ইন্দিরা বা রাজীব আমলের গল্প কিংবা প্রিয়াঙ্কা জাদু দিয়ে আর ভারতীয় জনগণের ভোট আদায় করা যাবে না।  মোদীর উল্টোদিকে একক কোনো নেতার ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিধাহীন ও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দাঁড়াতে না পারায় কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা এবারে নির্বাচনী প্রচারের কোনো পর্যায়েই বিজেপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেনি বলে আমার ধারণা। আর যে হিন্দুত্বের আবেদন ছিলো বিজেপি রাজনীতির মূল ভিত্তি সেখানে তাকে এড্রেস বা মোকাবেলা করার মতো অবস্থানেও বিরোধীরা ছিলো না। এ ব্যাপারে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগান বা ভারতীয় সংবিধানের দোহাই ব্যাপক মানুষের মনে কোনোই প্রভাব ফেলতে পারেনি।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসাম্প্রদায়িকতার ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এলেও তার স্থূল প্রচারণা কৌশল থেকে অনেকের কাছে বিষয়টিকে ¯্রফে সংখ্যালঘু তোষণ করে ভোট টানার চেষ্টা বলে মনে হয়েছে।  এছাড়াও তার অতিরিক্ত আত্মম্ভরিতা, বাচালতা, পশ্চিমবঙ্গকে তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি মনে করার আত্মসন্তুষ্টি এবং রাজ্যের অন্যান্য অসাম্প্রদায়িক শক্তির আস্থা বা বিশ্বাস অর্জন ও তাদের কাছে টানার ব্যাপারে তার অনাগ্রহও অন্যতম প্রধান কারণ যা বিজেপিকে এবার রাজ্যে এভাবে শক্ত আসন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মমতার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যটিতে সিপিএমসহ বামদের সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায় না থাকার পর্যায়ে চলে যায়। মাঠপর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলকে ঠেকাতে বা তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে সিপিএম কর্মীদের ব্যাপকহারে বিজেপিতে যোগদান বা তাদের হয়ে কাজ করার কথাও শোনা যেতো। এবারের নির্বাচনী ফলাফলে সে কথাটারই সত্যতা প্রমাণিত হলো। বামদের এই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং তার কার্যকারণ নিয়ে পরে কখনো হয়তো আলোচনা করা যাবে। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ