প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং একজন স্কলার কাম এডমিনিস্ট্রেটরকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দিতে হবে

কামরুল হাসান মামুন : অবশেষে র‌্যাংকিং নিয়ে আমাদের সবার প্রিয় অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যার অত্যন্ত সুন্দর একটি আর্টিকেল লিখেছেন যা বাংলা ট্রিবিউন ছাপিয়েছে। এ বিষয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি সবার কথা শুনে সবার শেষে বলবেন এটাই স্বাভাবিক এবং তিনি তাই করেছেন। এই বিষয়ে চরম দুটি সত্য কথা লিখেছেন। ১. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মৃত্যু পথযাত্রী। ২. ভাইস-চ্যান্সেলরদের নিয়োগ এবং অযোগ্যতা নিয়ে।

প্রথমেই তিনি চরম সত্য একটি কথা বলেন ‘আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে মৃত্যুপথযাত্রী, সেটা জেনেশুনেও আমরা তার হাত ধরে বসে আছি, শুধু তার মৃত্যুযন্ত্রণা একটুখানি কমানোর জন্য!’ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে এর চেয়ে সত্য কথা বলা সম্ভব নয়। আশা করি খুব শীঘ্র আগামী বাজেটে যেন জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেয়া হয় সেজন্য আমাদের নিয়ে একটি জোরালো আন্দোলন শুরু করবেন। এদেশে আন্দোলন ব্যতীত বড় কোনো ভালো পরিবর্তন আজ পর্যন্ত হয়নি।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল আরো লিখেছেন ‘আমি খুব মজা পেতাম যদি দেখতাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুক ফুলিয়ে বলতো, ‘আমরা এই র‌্যাংকিংয়ের থোড়াই কেয়ার করি! আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুক অমুক গবেষক নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, প্রতিবছর এতো হাজার পেপার প্রথম শ্রেণির জার্নালে প্রকাশিত হয়, এতোগুলো প্যাটেন্ট ফাইল করা হয়। অমুক অমুক শিক্ষক আন্তর্জাতিক মানের, তারা অমুক অমুক জার্নালের এডিটরিয়াল বোর্ডের সভাপতি, প্রতি বছর আমাদের এতো হাজার পিএইচডি বের হয়, এতোগুলো দেশ থেকে এতোজন ছাত্রছাত্রী নিয়মিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এতোগুলো হাইটেক কোম্পানি স্পিন অফ করে বের হয়েছে, এখন তারা এতো বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি, সেখানে এতোজন গবেষক ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে, ইত্যাদি ইত্যাদি!’ দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এগুলো কিছুই বলতে পারছি না’।

তিনি এখন প্রশ্ন করেন : আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর কি ঠিকভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে?

এর উত্তরে তিনি বলেন : ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় হর্তাকর্তা হচ্ছেন ভাইস-চ্যান্সেলর। তাদের কি পরিমাণ ক্ষমতা সেটি বাইরের মানুষের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার জন্য নানা ধরনের কমিটি থাকে। কিন্তু ভাইস-চ্যান্সেলররা চাইলে সেগুলো এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যে, সেই কমিটির কেউ মুখ পর্যন্তও খুলতে সাহস পাবেন না! যে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল শেষ হতে রাত দুপুর হয়ে যেতো, সেগুলো আধাঘণ্টায় শেষ হয়ে যায় সেরকম উদাহরণও আছে! যেহেতু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো-মন্দ, লেখাপড়া, গবেষণা, ভবিষ্যৎ একজন ভাইস-চ্যান্সেলরের উপর সাংঘাতিকভাবে নির্ভর করে, তাই মোটামুটি ঢালাওভাবে বলে দেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলরদের যদি ঠিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে সেগুলো ভালোভাবে চলবে।’ এটাই চরম সত্য কথা। বিশ্বের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কে সেটা তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এমনকি অনেক শিক্ষকও জানে না। তাহলে আমাদের কি করতে হবে সেটা একদম পরিষ্কার। আমাদের করতে হবে : ১. শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করতে হবে। ২. একজন স্কলার কাম এডমিনিস্ট্রেটরকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দিতে হবে। দলীয় আজ্ঞাবহ নয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত