প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত হচ্ছে সড়ক ও নৌ-পথ

অশোকেশ রায়: আসছে ঈদ-উল ফিতর। মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ছড়িয়ে যায় সবার মাঝে। প্রিয়জনদের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে শহর-নগর-বন্দরের মানুষ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যান লাখো নগরবাসী। তবে ঈদযাত্রায় নানা বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ পোহাতে হয় সড়ক, নৌ ও রেলপথে। তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে প্রতিবারই ব্যাপক উদ্যোগ ও প্রস্তুতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সড়কপথ নিয়ন্ত্রণকারী বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) বলছে, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বাসের ছাদে যাত্রী বহন না করা এবং ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন না করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। এ লক্ষ্যে তিনটি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যারা কাজ করবেন রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে।

বৃহস্পতিবার বিআরটিএ’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ, বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল আলমকে আহ্বায়ক করে মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ মে) থেকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৫ জুন পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে এ ভিজিলেন্স ও মনিটরিং টিম।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নৌ-রুট পাটুরিয়া দৌলতদিয়াকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে ঈদে নির্বিঘেœ যাত্রী চলাচল ও পারাপারে।
ঈদের সময় যানজট ও অপ্রীতিকর ঘটনা নিরসনে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এই মহাসড়ক ও নৌ-ঘাটগুলো। মহাসড়কে ১২৮টি এবং পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় জিরো পয়েন্ট থেকে আরসিয়াল মোড় (নবগ্রাম) পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তা ১৬টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মহাসড়কে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ঘাট এলাকায় যানজট ও যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে তা সেগুলোর তদারকি করা হবে।

যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে সব সময় ঘাট এলাকায় প্রস্তুত থাকবে মানিকগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরুরি রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোলরুমে (মোহনা)। মহাসড়কে যে সমস্ত স্থানে আলোর স্বল্পতা রয়েছে সেগুলোতে আলো, শিবালয় থেকে ছোট গাড়ির (প্রাইভেটকার) আলাদা লেন এবং পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় প্রবেশে রোড ডিভাইডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নৌ-পথ নিয়ন্ত্রণকারী বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র ভাসমান কারখানা মধুমতিতে ফেরিগুলোর পাম্প, পাখা ও বডির নানা ধরনের মেরামত করছে মেকানিক্যাল বিভাগ। ফেরিঘাটের পন্টুনগুলো উঁচুতে বসানোসহ সাইনবোর্ডের কাজও করছে বিআইডব্লিউটিসি।

বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ঈদে আমাদের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আমাদের দুইটি নৌপথে ৩৪টি লঞ্চ একযোগে চলাচল করবে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের সঙ্গে থাকবে রোভার স্কাউটের সদস্যরাও।’

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ট্রাফিক ও জেলা পুলিশসহ সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আশা করছি, ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ