প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একদিন ছোট বোনের ক্লাসে পেছনের বেঞ্চে বসে লেকচার শোনার সুযোগ হবে…

সৈয়দ ফয়েজ আহমেদ : জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়াতে অনুভব করি যে সমাজের তথাকথিত ‘সুস্থ’ সংখ্যাগরিষ্ঠরা এই ব্যাপারে কি রকম নিষ্ঠুর হন। আমি বেশিরভাগ সময়ই এসব উড়িয়ে দিতে পারি, অনেকে পারে না। তবে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু (অনেকের কাছে শব্দটা, প্রতিবন্ধী শব্দটার মতো আপত্তিকর, তবুও ব্যবহার করলাম) হওয়াটা কি রকম জঘন্য অভিজ্ঞতা দিতে পারে সেইটা অনুভব করতে না পারলেও টের পেলেই ভয়াবহ লাগে। এর ফলে দুনিয়ার যে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের প্রতি আলাদা একটা দরদ কাজ করে।

অনেক সময় উনারা ভুল রাজনীতি কিংবা ভুল দর্শনের চর্চা করলেও সেটাকে যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে চাই। কিন্তু এই নিয়ে যখন কাছের লোকজন আক্রান্ত হয়, তখন চুপ করে থাকা যায় না। আমার ছোট বোন সোনম সাহা ভীষণ রকম কষ্ট পেয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক, কেবলমাত্র ওর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বেনামী ছাত্রের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছে। সোনম এটাকে উড়িয়ে দিতে চাইলেও আমি ওর নিরাপত্তার দাবি জানাই। নিজের বেলায় যতোই ভাবলেশহীন থাকি, আপনজনের বেলায় সেটা থাকার সুযোগ নেই।

আমার প্রয়াত বন্ধু মলয় বলতো, বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমাকে কেউ মারতে আসলে আগে আমাকে পার হয়ে যাইতে হবে। সোনমকে সেই কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না, আমার অতোটা আত্মবিশ্বাস নেই, বড়জোড় ফেসবুকে দুইটা লাইন লিখতে পারি। আর পারি সতর্ক থাকার উপদেশ দিতে। আগের দিনের মতো আইবিএ ক্যান্টিন গিয়ে পেট ভরে ভাত খাবো আর ছোট বোন সেটা তৃপ্তি নিয়ে দেখবে সেই দিন হয়তো নেই। তবে এখনও আশা করি, আরেকটু পড়াশোনা করে কোনো একদিন ছোট বোনের ক্লাসে পেছনের বেঞ্চে বসে লেকচার শোনার সুযোগ হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত