প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজেটে আয়কর সীমা বাড়ানো ও কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের

স্বপ্না চক্রবর্তী : আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। পাশাপাশি টার্নওভার কর ৪ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশ করা উচিত বলে দাবি করে সংগঠনটি। স¤প্রতি অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের হার ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ নির্ধারণ, ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করা, টার্নওভার করের সীমা ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ ভ্যাটসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত দেন। সরকারের এই দাবি মেনে নিয়েই টার্নওভার কর ৩ শতাংশ করার দাবি জানান সংগঠনটির এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪০ তম সভায় সংগঠনটির পক্ষে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এসময় এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গত চার বছর ধরে ব্যাক্তি আয়কর সীমা একই রাখা হয়েছে। অথচ এ সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে এটি আড়াই লাখ টাকা রাখার কোন যৌক্তকতা নেই। তাই এটি বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হোক। তিনি সকল ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেন।

এসময়, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আগামী বাজেটে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। মহিলা ও পয়ষট্টি বছর বা তদুর্দ্ধ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকায় উন্নতীকরণ ও প্রতিবন্ধি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

এদিকে, পূঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর পুঁজিবাজারের তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ও নন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ৩২ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়াও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্পোরেট কর সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভুত ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে৷

অন্যদিকে একাধিক হারে ভ্যাট নির্ধারণ করলেও রেয়াতের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে দাবি করে ১৫ শতাংশের মতো ১০ শতাংশ হারেও রেয়াত দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। নতুবা এক্সাইজ ট্যাক্স হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করে শীর্ষ এই সংগঠন। প্যাকেজ ভ্যাটের পরিবর্তে ক্ষুদ্র, গ্রামীণ উদ্যোগ ও কুটির শিল্প খাতের জন্য টার্নওভার করের আওতায় সকল পর্যায়ে অব্যাহতির সীমা বাৎসরিক ৩৬ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করছে এফবিসিসিআই।

এছাড়া আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আইন বাস্তবায়নে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। আসছে বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব দেয় তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত