প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রানহীণ কাকরাইলের ছবিপাড়া

আহমেদ শাহেদ : ছবিপাড়া খ্যাত রাজধানীর কাকরাইলে আগের মতো আর প্রাণ নেই বললেই চলে। একটা সময় সিনেমার রিল, পোস্টার, ব্যানার কাকরাইলপাড়া থেকে সারা দেশের সিনেমা হলে সরবরাহ হতো। সেসব এখন বলতে গেলে অনেকটাই অতীত। এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে শত শত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিস। তিন যুগ আগে থেকে কাকরাইলে গড়ে ওঠে শত শত প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান। এর আগে ষাটের দশকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই ছিল ভিক্টোরিয়া পার্ক, নবাবপুর ও গুলিস্তানকেন্দ্রিক। জানা যায়, আশির দশকের শুরু থেকে এরা নতুন অফিস দিতে থাকে কাকরাইলপাড়ায়। অল্প সময়ে গড়ে ওঠে এখানে শত শত প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান।

ওই সময় সিনেমা ব্যবসা রমরমা হওয়াতে পর্যায়ক্রমে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ব্যবসা রাজমণি ফিল্ম সেন্টার, ফরিদপুর ম্যানশন, যমুনা বিল্ডিং, ভুঁইয়া ম্যানশন, ইস্টার্ন কমার্শিয়াল বিল্ডিংসহ কাকরাইলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

তাদের মধ্যে উল্লেখ করা যায়-আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড, রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন, খান আতা প্রাইভেট লিমিটেড, যমুনা ফিল্ম করপোরেশন, উজ্জ্বল ফিল্মস, সুচন্দা ফিল্মস, ববিতা ফিল্মস, জয় ফিল্মস, ডি-রাশ ফিল্মস, সনি পিকচার্স, এসডি প্রোডাকশন, নান্টু প্রোডাকশন, স্বরলিপি বাণীচিত্র, আলমগীর পিকচার্স, লায়ন মুভিজ, ভাই ভাই ফিল্মস, তিতাস কথাচিত্র  দেশচিত্র, আশা ফিল্মস, পারভেজ ফিল্মস, হাসনাবাদ কথাচিত্র, অমি বনি কথাচিত্র, পর্বত পিকচার্স, বাউল চলচ্চিত্র, আলিম ফিল্মস, কিবরিয়া ফিল্মস, সনি কথাচিত্র ইত্যাদির নাম। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক জনপ্রিয় গল্পের সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

২০১৩ ও ২০১৪ সালেও তিতাস কথাচিত্র ‘রোমিও ২০১৩’, ‘ভালোবাসা এক্সপ্রেস’সহ বেশ কয়েকটি ছবি নির্মাণ করে। ২০১৫ সাল  থেকে আর ছবি নির্মাণে নেই প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজক আবুল কামাল। তিনি জানান, এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সর্বশেষ শাকিব খান ও বাপ্পীকে নিয়ে ছবি বানিয়েছি। সিনেমা ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না এখন। এক সময়ে আমার এই প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত হিট ছবি ছিল। এখন তো চলচ্চিত্রের ব্যবসা নেই। তাই অফিস বন্ধ। সনি কথাচিত্র থেকে অনেক ব্যবসাসফল ছবি মুক্তি পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মিরপুর সনি সিনেমা হলের মালিক। তিনি বলেন, বর্তমানে স্টার সিনেপ্লেক্সকে আমার সনি সিনেমা হলটি বেশ কয়েক বছরের জন্য দিয়ে দিয়েছি। সিনেমা হলে এখন ব্যবসা নেই, তাই অফিসও বন্ধ করে দিয়েছি।

কাকরাইলে শত শত অফিস এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। উন্নতমানের সিনেপ্লেক্সে দর্শকরা বাংলাসহ বিদেশি ভাষার সিনেমা দেখতে ভিড় করছে। তাই বর্তমানে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমিও সিনেমায় লগ্নি করছি না। অপেক্ষায় আছি, বাজার ফিরলে আবার হয়তো প্রযোজনায় ফিরবো। বাজারটা আগের অবস্থানে ফিরে আসুক এটাই চাওয়া।

কিবরিয়া ফিল্মস, আশীর্বাদ চলচ্চিত্র, জননী কথাচিত্র, হার্টবিট প্রোডাকশন, টিওটি ফিল্মস, গীতিচিত্র কথাসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা ও পরিবেশনার অফিস কাকরাইলে এখনো খোলা আছে। এরমধ্যে হার্টবিট  প্রোডাকশনের কর্ণধার তাপসী ফারুক বলেন, আগে বছরে ৩-৪টি সিনেমা প্রযোজনা করেছি।

এখন তো এ বছর একটিও শুরু করতে পারিনি। চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা খুবই খারাপ। শুধু শুধু অফিসভাড়া গুনতে হচ্ছে। সবশেষ গত বছর ‘সুপারহিরো’ ছবিটি আমার প্রোডাকশন হাউজ থেকে মুক্তি পেয়েছিল। চলচ্চিত্রের সুদিন না ফিরলে কাকরাইলে এই প্রযোজনা ও পরিবেশনার অফিস টিকিয়ে রাখা সামনে সম্ভব হবে না আমাদের। জাজ মাল্টিমিডিয়া, হার্টবিট, শাপলা মিডিয়া, শাকিব খান ফিল্মসসহ কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বছরে দু-তিনটি করে ছবি প্রযোজনা করছে এখন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত