প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রী বললেন, এখনো মনটা পড়ে থাকে আমার ঐ প্রিয় গ্রামে

আসাদুজ্জামান সম্রাট : সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে বলে সেই অভিমানে তারা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে এটা রাজনৈতিক একটা ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন এটাই আমি আসাকরি।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাম উল্লেখ না করে জানতে চান, যারা সাতটি আসন পেয়ে সংসদের বাইরে রয়েছে, তাদের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান কী হবে?

সংসদনেতা বলেন, ১০ বছরের যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ পেয়েছে, আর পেয়েছে বলেই তারা বহুপূর্ব থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছিলো যে তারা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং জনগণ সেই ভোট দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেয়েছি সকলে সন্মিলিতভাবে দেশটাকে গড়ে তুলব। তাই আমি নির্বাচনের আগে সকল দলকে ডেকেছিলাম, সুন্দর পরিবেশে বৈঠক করেছি এবং সকলকে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম যে সকলে যেন নির্বাচন করে। এখন যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে বলে সেই অভিমানে তারা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে এটা তাদের একটা রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কারণ, ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। যদি তারা সংসদে আসে তাহলে তাদের যদি কোন কথা থাকে, তাহলে তারা কিন্তু বলার একটা সুযোগ পাবে, আর এই সুযোগটা শুধু পার্লামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেহেতু মিডিয়াতে সম্পূর্ণভাবে সরাসরি যায় এবং সংসদ টিভিও আছে, তার মাধ্যমে সারাদেশবাসী জানতে পারবে। এই সুযোগটা তারা কেন হারাচ্ছেন আমি জানি না। আমার আহ্বান এটাই থাকবে যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন এটাই আমি আশাকরি।

অবসরে গ্রামে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করে সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসলে গ্রামটা হচ্ছে আমাদের প্রাণ। কেননা আমি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি, গ্রামেই বড় হয়েছি ওই কাঁদা মাটি মেখেই বড় হয়েছি। খালে ঝাঁপ দিয়ে গাছে উঠে নানাভাবে খেলাধুলা করেই গ্রামে বড় হয়েছি। হয়তো একটা পর্যায়ে চলে এসেছি। কিন্তু গ্রামের টান কখনো মুছে যাইনি, মুছে যায় না। এখনো মনটা পড়ে থাকে আমার ওই প্রিয় গ্রামে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে আমরা নাগরিক সুবিধা দিতে চাচ্ছি। কারণ একটু ভাল হলেই গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা, এটা আমার আসলে কোন দিনই পছন্দ ছিল না।

সংসদনেতা বলেন, সবসময় একটা আকাঙ্খা, যখনই আমি অবসর নেব, আমি গ্রামের বাড়িতে যেয়েই থাকব। সেখানে সবুজ শ্যামল সুন্দর পরিবেশ সবসময় আমাকে টানে। কাজেই এটাই আমার একটা ইচ্ছা। আমি মনে করি গ্রামের নির্মল বাতাস সুন্দর পরিবেশ এটা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই অনেক সুস্থ রাখে। মন ভাল থাকে, প্রশান্তি জোটে অনেক কার্যকর। শহরের ইট কাঠের এই বদ্ধ একটা আবহাওয়া এবং পরিবেশ থেকে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশটা সবসময় আমার আকাঙ্খা।’

সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে নিজ এলাকা ভোলার বিবরণ দিতে থাকেন। স্পিকার তাকে দুই দফা সংক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেও তিনি বর্ণনা দিতে থাকেন। এসয় স্পিকার দু:খিত বলে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নটি সম্পূরক না, এলাকা ভিত্তিক।
জবাবে দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে উনি ভোলার বিবরণ দিতে চাচ্ছিলেন। যখনই যে সরকার এসেছে, ভোলা কিন্তু কেউ না কেউ মন্ত্রী থেকেছে। আর ভোলার উন্নয়ন হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি সংসদ সদস্য যে এলাকার কথা বলছেন, ওখানে কিন্তু জ্যাকব টাওয়ার হয়ে গেছে। কাজেই আমার মনে হয়, জ্যাকব টাওয়ার দেখতে বহু লোক যায়। আমার মনে হয় এখানেই উনার সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত