প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জেনা করা পাপ, তবে পর্ন সিনেমায় অভিনয় করা পাপ না’

আমিন মুনশি : ‘জেনা করা পাপ, তবে পর্ন সিনেমায় অভিনয় করাকে আমি পেশার অংশ হিসেবে দেখি’, এমন মন্তব্য করলেন পাকিস্তানি পর্নস্টার নাদিয়া আলি। ডেইলি পাকিস্তানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় কাজ অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান নাদিয়া। নিজেকে বিশ্বাসী মুসলিম দাবি করে তিনি বলেন, পর্ন সিনেমায় অভিনয় করাটা তার প্রতিদিনের জীবনের অংশ। আনন্দ পাওয়া নয়, বরং পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে কাজটি করেন তিনি।’ (সূত্র: টেকনোলজি লাইফস্টাইল.কম)

বিশ্বাসী মুসলিমের জন্য পবিত্র কোরআনের বেশ কয়েকটি জায়গায় জেনা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথমটি হল, ‘তোমরা জিনার ধারে কাছেও যেয়ো না: কারণ এটি একটি লজ্জাজনক ও নিকৃষ্ট কর্ম, যা অন্যান্য নিকৃষ্ট কর্মের পথ খুলে দেয়।’ (সূরা আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল), আয়াত ৩২)

বিশ্বাসী মুসলিমের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস শরীফে জেনাকে সঙ্গায়িত করা হয়েছে সকল প্রকারের বিবাহবহির্ভূত যৌনসঙ্গম হিসেবে। হযরত আবু হুরায়(রা.) সূত্রে মুহাম্মাদ (সাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আদম সন্তানের উপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু-চোখের যিনা হল (নিষিদ্ধ যৌনতার প্রতি) দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, রসনার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হচ্ছে আকাংখা ও কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ অবশেষে তা বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (সহীহ বুখারী)

হযরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল তার দাসীদেরকে বলতেন, যাও এবং পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে আমাদের জন্য কিছু আয় করে আনো। এর পরপরই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা উক্ত আয়াত নাজিল করেন: ‘আর তোমাদের অধীনস্ত দাসীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করো না, যখন তারা ইহকালীন জীবনে ভালো কিছু পাবার আশায় নিজেদের সতীত্ব বজায় রাখতে চায়, আর কেউ যদি তাদেরকে বাধ্য করে, তবে নিশ্চই বাধ্য করার পর আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।’ (২৪:৩৩) (সহীহ মুসলিম)

উপরোক্ত পাকিস্তানি পর্নস্টার নাদিয়া আলির এ মন্তব্য দেখে মনে পড়লো, আমাদের সমাজের কিছু লোকের সরল কথা- ‘নামাজ না পড়লে কী হৈচে, আমার ঈমান ঠিক আছে!’

চলুন দেখি, কোরআন-হাদিস এ ব্যাপারে কী বলে- ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত (নামাজ) ত্যাগ করে, যদি সে সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে, তবে ওলামাদের দুটি মতের সবচেয়ে সহি মতানুযায়ী, সে বড় কুফরি করবে। আর যদি সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারকারী ও অবিশ্বাসী হয়, তাহলে ওলামাদের সর্বসম্মত মতে সে কাফের হয়ে যাবে।’ এ সম্পর্কে নবী করীম (সা) এরশাদ করেন: ‘কর্মের মূল হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে সালাত এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বা সংগ্রাম করা।’ (ইমাম আহমদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)

নবী করীম (সা) আরও বলেন: ‘ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হল সালাত ছেড়ে দেওয়া।’ (মুসলিম)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত