প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজের মতে, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স’ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশেরে উন্নতি সম্ভব

মঈন মোশাররফ : বিশ্বব্যাংক গ্রæপের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচক বা ‘ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স ২০১৮’-এ বাংলাদেশ আরও এক ধাপ পিছিয়েছে। ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৭৭তম। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশকে শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে। ডুয়িং বিজনেস র‌্যাংকিংয়ের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, অন্য অর্থনীতি বা দেশের তুলনায় আপনি কতোটা ভালো করার চেষ্টা করছেন, সেটার ভিত্তিতে একটি দেশের অবস্থান নির্ধারিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ২০২১ সালের মধ্যে এই র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সেটা খুবই ইতিবাচক বিষয়।

বোববার বিবিসি বাংলাকে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছাড়া এই সূচক উন্নতি করা কঠিন। এরপর সংস্কার কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘ডুয়িং বিজনেস রিফর্ম মেমোরেন্ডাম’ তৈরি করা হয়েছে। বিডার নেতৃত্বে ২৫-২৬টি মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা প্রণয়নের কাজ শুরু করে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ডুয়িং বিজনেস সংস্কারবিষয়ক একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে ২০২১ সালথেকে টার্গেট করে । এখনও আনেক সময় আছে লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আবার অনেক সময় নেতিবাচক সংস্কার হতে পারে। যেমন ব্যবসা শুরু করার সূচকে তাই হয়েছে। ভারত এবার এই সূচক ৩০ ধাপ এগিয়েছে। এটা দেশটিতে ব্যবসা করার পরিবেশের যে উন্নতি হচ্ছে তার প্রতিফলন। এভাবে উন্নতি হলে একটা দেশের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন সহজে ব্যবসা করার স‚চকে নিচের দিকে থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে একটা ভুল বার্তা যাবে। তবে র‌্যাংকিংয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো একটি দেশ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কতটুকু সচেষ্ট। বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিক, এই ইতিবাচক বার্তা বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

তিনি জানান, তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, আইন বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ধারাবাহিক পদ্ধতিগত উন্নয়ন করে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন খুবই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে। কারণ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন খুবই বিস্তৃত একটা বিষয়। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা কোন বিষয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সেগুলো সমাধানে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তৃতীয়ত, মাঠপর্যায়ে সুপারিশ বাস্তবায়নে ভালো সমন্বয় ও যোগাযোগ থাকতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ম‚ল কাজটি মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা যদি না হয়, তাহলে দেখা যাবে সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সমাধানের উপায় নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নে আটকে গেছে। এ ক্ষেত্রে সময় খুব বেশি নেই। আগামী বছর বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারিত হবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়া সংস্কারের ভিত্তিতে। এত দিন মে মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যেত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত