প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোশাক নিয়ে আবোল-তাবোল

ইকবাল আনোয়ার : পোশাকে আবৃত হয়ে লজ্জা নিবারণ করি বলে আমরা সভ্য। যদিও নিবারণের পোশাক নেই। নেই ঠিক বলা হলো না। আমরা এভাবেই সবকিছু বাড়াবাড়ি করে লিখি। কে বলে নেই, আছে, ত্যানা একখান। নিবারণ মানুষ। প্রমাণ হলো তার ভোট আছে।

পশু উলঙ্গ থাকে। তাই তো ওরা পশু। পশু বলাই তো বড় গালি। ‘অসভ্য’ কথাটা মানুষের জন্য তাকে রাখা থাক। লাগে মাঝে মধ্যে, নানা কারণে ব্যবহার করা লাগে, শায়েস্তা করতেও লাগে। সাধু-সন্ন্যাসী কৃচ্ছ সাধনার অঙ্গ হিসেবে নিম্নাঙ্গ উদাম রাখে। অহংকার লোভ ঝেড়ে-মুছে ফেলে সাধারণ জীবনের সাধনায় যৌন দিগম্বরতা ধারণ করে, এ নিতান্ত তাদের ধারণা। আমরা ভদ্ররা একান্ত বিশেষ গোপন কারণ ছাড়া আর সব ছাড়লেও পোশাক ছাড়ি না। বরং বিশেষ সময়ে আমরা বিশেষ সাজ পোশাকের মূল্য বুঝি। আর সাধু-সন্ন্যাসী পাগলদের সমাজ থেকে দূরে রাখি। কী অসভ্য তারা!

শিশুই মানব সমাজে সবচেয়ে নিষ্পাপ পবিত্র। উলঙ্গ শিশুই বেশি সুন্দর। এটা কেমন হলো! ভাবায় একটু। উলঙ্গ হয়েও তারা নিষ্পাপ! পবিত্র! সুন্দর মানুষ। আদরের ধন। কোথায় দাঁড়ালো যুক্তিটা। এটা কী কেবল বয়স বলে কথা? সাধু বাউল বলে, আমাদের বয়স ছাড়া ভাবো। আমরাতো আর বয়স ফেরি করি না, বয়স দেখিয়ে পারমিট করতে চাই না, বিয়ে করতে চাই না, বয়স্ক ভাতা চাই না, ভোটও চাই না, বয়স আমাদের কোনো প্রয়োজনে লাগে না। আমাদের বয়স হলো- এই আছি, এই নেই। -না না অতো বড়ো দামড়া হয়ে উলঙ্গটাকে হা করে রেখেছো! লজ্জা করে না! – লজ্জা করলে কী উলঙ্গ থাকা যায়রে পাগলা। লজ্জার কথা স্পষ্ট করে বললে লজ্জা পাবি বাবা, তখন তো মারবি বাবা। লজ্জা কী কোনো বিশেষ অঙ্গের কেনা গোলাম। -কি বলো এসব। ভদ্র পাড়া থেকে ভাগো। এখানে মেয়েছেলে আছে। -ঠিক আছে, বাবা ভাগলাম। ভাগলেও আমরা থাকি, থাকলেও ভেগেই আছি।

পাগল চলে গেলে ভাবে বিবেক, বিবেকের বয়স ষাট- তাহলে কী পোশাক বড় কথা নয়। সাধু যারা, উলঙ্গ যারা, তারা তো কোনো ক্ষতি করছে না, (তাদের লজ্জা পায় না যখন, আমাদের পাবার দরকার কী। আমরা তো লজ্জা ঢেকেই রেখেছি)। ক্ষতি তো যতো আমরা পোশাকধারীরা করছি। পোশাক যতো জমকালো ক্ষতি ততো বেশি।

তাহলে পোশাক পরি কেন?-বিবেকের ভাই বিবস্ত্র। থাকে নিম গাছে। প্রকৃতির তাড়ানায় নামে মাটিতে, বলে, অ ভাই, জানলে না তো কিছু। – কী জানবো বিবস্ত্রের কাছে আমি? পোশাকের সাথে লজ্জার সম্পর্ক থাকলে, পোশাক পরেও মানুষ নির্লজ্জ হয় কেমনে। লজ্জা অঙ্গ বিশেষ নয়? তাহলে তো শিশুকে দেখে লজ্জা পেতে। – তাইতো, আরও বলো, আজ জানতে হবে আমাকে। -আস্তিনের নিচে কতো কিছুই লুকানো যায়। শরীরী উপাদান তো ভাসমান গোপন, হিংসা-বিদ্বেষ, বজ্জাতি, বর্বরতা, বেহায়াপনা, বেয়াদবি, বেলেল্লাপনা, বদমাইশি, লোভ, অহংকার, সব পোশাকের নিচে রাখে তথাকথিত সভ্য লোকেরা। আরও রাখে যেমন প্রতারণা, প্ররোচনা, প্রলোভন, ধর্ষকামিতা, চাপাতি, পিস্তল, শঠতা, দস্যিপনা, ক্ষমতা, দুর্বৃত্তায়ন সব। এসব কিছুই পোশাকের নিচে রেখে ভদ্র সাজা যায় বলে প্রকৃতই (!) (ওই তাকে তোলা শব্দটা) ‘অসভ্য’ লোকই পোশাক পরে। ফেসবুক থেকে সত্য লোকের শীত তাপ নিবারণ ছাড়া পোশাক লাগে না। ওটাও তারা জয় করতে পারে। ঠিক তখন নিম গাছ থেকে একটা স্বাস্থ্যকর বাতাস এসে ভদ্র-অভদ্র মানুষ, পশু, শিশু, যুবা, বোবা, কালা নির্বিশেষে সবার ওপরে বয়ে যায়, বিশুদ্ধতার বারতা নিয়ে। (রম্য গদ্য) ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত