প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্লাব ঘরেই চলে নির্যাতন পরদিন আত্মহত্যা

আফজাল হোসেন: গাজীপুরের শ্রীপুরের শাল বন ঘেরা একটি গ্রাম জয়নাতলী, যে গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই গ্রামেরই একটি হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছিল কিশোর শাহীন (১৩)। গত ২৫ জানুয়ারী বন্ধুদের সাথে উচু স্বরে গান বাজানোর জের ধরে কিশোরকে মারধর করেন প্রতিবেশীরা। মারধরের শিকার হয়েও সমাজপতিদের ভয়ে কিশোরটি আত্নরক্ষার্থে রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল কিন্তু সেখানেও আর নিরাপদে থাকতে পারেননি। রাতেই ঘুম থেকে কিশোরকে উঠিয়ে নেয়া হয় স্থানীয় জয়নাতলী সূর্য তরুন ক্লাব ঘরে, সেখানেই চলে তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

পরদিন ২৬ জানুয়ারী সকাল আটটার দিকে তার নিথর দেহ পাওয়া যায় স্থানীয় বনের ভিতর। সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ষোষনা করেন।

কিশোরের বাবা আবুল কালাম অভিযোগ করেন,তার একমাত্র ছেলে শাহীন গত কয়েকবছর ধরেই অসুস্থ ছিল মারা যাওয়ার আগের রাতে সে তার বন্ধুদের সাথে সাউন্ড বক্সে গান শুনছিলেন এমন সময় প্রতিবেশী একই গ্রামের প্রবাসী সাইবালীর ছেলে মোস্তফা ও হোসেন আলীর ছেলে আইবালী তার ছেলেকে মারধর করেন। এসময় তার ছেলে বাড়ী চলে আসে। পরে তাদের হুমকীতে ভীত হয়ে তারা তার ছেলেকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঘুমানোর জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে শীতের রাতের ১১টার দিকে খালী গায়ে তার ছেলেকে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকেই ঘুম থেকে উঠিয়ে ক্লাব ঘরে নিয়ে যায় আইবালীরা। পরে সেখানেই মারধর সহ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় এক পর্যায়ে তার ছেলেকে পরদিন সালিশে মাথা ন্যাড়া করে কালি দিয়ে গ্রামে ঘুরানো হবে বলে জানানো হয়। এসময় তার মা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আনেন পরদিন সকাল ১০টায় গ্রাম্য সালিশে হাজিরের শর্তে।

পরদিন ২৬ জানুয়ারী সকালে তার ছেলে ঘুম থেকে উঠে ক্লাবে সালিশ বৈঠকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এসময় তিনি মাথার চুল কাটার জন্য ছেলেকে ১০০টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে স্থানীয় ফুলবাড়িয়া বাজারে পাঠান তবে কিছুক্ষণ পরেই তার ছেলে মুঠোফোনে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানান। পরে তিনি ও তার স্বজনরা তাকে স্থানীয় বনের ভিতর থেকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ষোষনা করেন। তবে চিকিৎসকরা বলেছে ছেলে নাকি ইদুরের ঔষুধ খেয়ে মারা গেছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তার ছেলে সালিশের ভয়ে আত্নহত্যা করেছেন না তাকে জোড় করে বিষ খাইয়ে দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের জবাব কোথাও পাচ্ছেন না।

কিশোরের মা ফাতেমা আক্তার জানান,তার ছেলেকে ক্লাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে তিনি ক্লাব ঘরে গিয়ে দেখেন তার ছেলে মারধরের কারনে কান্নাকাটি করছেন। এসময় তিনি সবার হাতে পায়ে ধরেন। এক পর্যায়ে তাদের দেয়া ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছেলেকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন। পরদিন সকাল ১০টায় সালিশ হওয়ার কথা ছিল,আর এর ভয়েই সে সারারাত কান্নাকাটি করেছিল। পরে সকালে চুল কাটার জন্য আমাকে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিছুক্ষন পরেই তার ছেলের দু:সংবাদ কানে আসে। তার আক্ষেপ ছেলে হত্যার বিচারের জন্য গত কয়েকদিন ধরেই এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু কোন বিচার পাচ্ছেন না।

স্থানীয় জয়নাতলী সূর্য তরুন যুব সংঘের সভাপতি শাহজামাল জানান, তিনি ঘটনার সময় ক্লাবে ছিলেন না তবে স্থানীয়রা নাকি বিচারের জন্য ক্লাবে নিয়ে এসেছিল। তার ধারনা ছেলেটি হয়ত ভয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবেই আপোষ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান,যেহেতু এটি আত্মহত্যার বিষয় সেহেতু থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এ ছাড়াও কিশোরের লাশের ময়না তদন্তও হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত