প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পাদককে হত্যার পরিকল্পনা ছিলো তাদের
আসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৪ সদস্য গ্রেফতার

সুজন কৈরী : দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং অনলাইন এ্যাকটিভিস্টদের হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৪ সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলো- মো. শাহরিয়ার নাফিস ওরফে মো. আম্মার হোসেন (২০), মো. রাসেল ওরফে সাজেদুল ইসলাম গিফারী (২৪), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে নুরুল ইসলাম (২৪) ও মো. আব্দুল মালেক (৩১)। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, মোবাইল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর আশুলিয়া এলাকা থেকে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সক্রিয় সদস্য আব্দুস ছোবহান ওরফে হাবিবকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে ২৯ জানুয়ারি তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আশুলিয়া থানায় দায়ের করা মামলার (নং- ৮৪) মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতার আসামীর দেওয়া তথ্য এবং মামলার ছায়া তদন্তের উপর ভিত্তি করে র‌্যাব-১ এর একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ২টায় রাজধানী উত্তরা থেকে অভিযান চালিয়ে এবিটির ৪ জন সক্রিয় সদস্যদকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার শাহরিয়ার নাফিস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে দুই বছর বিভিন্ন মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করে। পরে আবারো আগের হাইস্কুলে অধ্যায়ন শুরু করে। ২০১৭ অনলাইনে (ফেসবুক) আমানের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে এবিটিতে যোগদান করে। আমান তার নিয়ন্ত্রক। আমানের নির্দেশনায় সে ৪-৫ টি ফেসবুক গ্রুপ তৈরী করে প্রচার প্রচারণা চালাত ও জঙ্গি সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। এভাবে সে ৭ থেকে ৮ জনকে এবিটির সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। শাহরিয়ার এবিটির টার্গেট কিলিং মিশনের মতাদর্শে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অনলাইনে বিভিন্ন এ্যাকটিভিস্টদের উপর নজরদারি করা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শাহরিয়ার ছদ্মবেশে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি এ্যাকিটিভিস্ট (নাস্তিক) গ্রুপ ঢুকে পরে। এরপর সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ্যাকটিভিষ্ট গ্রুপের এক সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ওই মিশনে সংগঠন থেকে শাহরিয়ার ও অপর দুই সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে একজন ধারালো অস্ত্রসহ এবং অপর সদস্য বরগুনা থেকে বগুড়া যায়। এরপর তারা অনলাইনে ফোন করে ওই উক্ত এ্যাকটিভিস্ট সদস্যকে সাক্ষাত করতে বলে। কিন্তু তিনি সাক্ষাত না করায় তাদের মিশনটি সম্পন্ন হয় নাই। পরে তারা বগুড়া থেকে স্ব স্ব গন্তব্যে ফেরত চলে যায়।

গ্রেফতার রাসেল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ২০১৩ সালে এসএসসি পাশ করে একটি গামেন্টর্সে চাকরী নেয়। ওই সময় সে ফেসবুকে উগ্রবাদী পোস্ট ও ভিডিও দেখত এবং অন্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করত। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রুপের নিয়ন্ত্রক আমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং আমান তাকে জঙ্গি সংগঠনে যোগদানে জন্য উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমানে সে ছদ্মবেশে একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। রাসেল এবিটির এই অংশের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে। সে নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনায় বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ছাড়াও সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার রবিউল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ২০১০ সালে দাখিল পাশের পর সে বগুড়া পলিটেকনিক্যাল থেকে ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালে ডিপ্লোমা ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে। ২০১৮ সালে শাহরিয়ারের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। আব্দুল মালেক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন প্রাইভেট গাড়ী চালক। সে ২০১৮ সালে রাসেলের মাধ্যমে বর্ণিত গ্রুপে যোগদান করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, বর্তমানে গোপনে তারা সংগঠনকে উৎজীবিত করার কাজ করছে। তাদের অন্যতম পরিকল্পনা হল, সংগঠনের প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানীকে কারাগার থেকে মুক্ত করা। যদি তারা তাদের নেতাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত না করতে পারে, তাহলে কারাগারে হামলা করে হলেও জসিমউদ্দিন রহমানীকে মুক্ত করবে বলে জানিয়েছে। জসিমউদ্দিন রহমানীকে মুক্ত করার জন্য তারা ইতোমধ্যে অর্থ সংগ্রহ করেছে। তারই একাংশ গ্রেফতারকৃত রাসেলের কাছে জমা ছিল বলে জানা যায়। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম দ্বারা বিভিন্ন অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট, ব্লগাররা টার্গেট এন্ড কিলিংয়ের ভিকটিম হয়েছে।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি এ্যাকটিভিস্ট গ্রুপে ছদ্মবেশ নিয়ে যুক্ত হয়ে, উক্ত গ্রুপের সদস্যদের চিহ্নিত করে হত্যার চেষ্টা করেছে। একটি জাতীয় পত্রিকায় বিবাহ সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে কটুক্তি করায় ওই পত্রিকার সম্পাদককে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাদের আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত