প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের

বাংলা ট্রিবিউন : রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২১ জন প্রভাবশালী সিনেটর। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের এই সিনেটরদের আনা একটি প্রস্তাবে মিয়ানমারে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখা সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিনেটর জেফ মার্কলির নেতৃত্বে এই প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) আনা হয়েছে। এতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের মুখে জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই প্রত্যাবাসন যেন স্বতঃস্ফূর্ত হয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের মুখে গত দেড় বছরে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, তাদের ভিটেমাটি নিশ্চিহ্ন করেছে। এ ছাড়া ব্যাপক নারী ধর্ষণ, হত্যা ও জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করার জোরালো অভিযোগ আছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এই প্রস্তাবে আরসার (এআরএসএ) হামলারও নিন্দা করা হয়েছে।

মার্কিন সিনেটরদের এই প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অপরাধ মানবতাবিরোধী নাকি গণহত্যা, তা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লিংসহ এই র্ঘণ্য অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপও চেয়েছেন দ্বিদলীয় এই সিনেটররা।

রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে প্রবেশের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়াসহ তাদের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াসহ তাদের ভরণপোষনে বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

সিনেটর জেফ মার্কলে বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দমনপীড়নমূলক অভিযান পরিচালনা করছে।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পরিচায়ক, গণতন্ত্রের নয়। আমরা তাদের এ অবস্থান মেনে নিতে পারি না।’

জেফ মার্কলে ছাড়া এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকা সিনেটররা হলেন মার্কো রুবিও, ডিক ডারবিন, সুসান কলিনস, ডিয়ানে ফিয়েনস্টেইন, টড ইয়াং, বেন কার্ডিন, থম টিলিস, এলিজাবেথ ওয়ারেন, টিম কিয়ানে, ক্রিস ভ্যান হোলেন, শেরড ব্রাউন, এডওয়ার্ড জে. মারকে, রন উইডেন, বার্নি স্যানডারস, পেটি মুরে, ক্রিস কুনস, অ্যামি ক্লুবুচার, ক্যাথারাইন কর্টস মাসতো, ব্রেইন শাটজ, কমলা হ্যারিস এবং টিনা স্মিথ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত