প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৈরাশ্যের উল্টো দিকে কিছু আশার কথা

কাকন রেজা: দক্ষিণ এশিয়াসহ সারাবিশ্বের সমাজচিত্রে ক্রমেই ছড়াচ্ছে নৈরাশ্যের রং। রাজনীতির যাত্রা তো ক্রমশ নৈরাজ্যের পথে। তবে এর মাঝেও কিছু খবর আশার রোশনাই হিসেবে দৃশ্যমান হয়। তেমনি একটি হলো, পাকিস্তানে প্রথম মহিলা হিন্দু বিচারকের নিযুক্তির খবর। পাকিস্তান বলতেই নেতিবাচক একটি চিত্র মনে খেলে যায়। সেই পাকিস্তানের বিচারক নিযুক্ত হয়েছেন একজন হিন্দু নারী, এটা অবশ্যই একটি আশা জাগানিয়া ব্যাপার। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি পড়লে বোঝা যাবে, এটা হঠাৎ কিংবা কাকতালীয় কোনো বিষয় নয়। বিচারক সুমন কুমারীর বাবা একজন চোখের ডাক্তার। তাদের তিন বোনের মধ্যে অন্য দু’বোনের একজন ইঞ্জিনিয়ার, অপরজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। পাকিস্তানের মতো একটি দেশে একজন হিন্দু ডাক্তারের তিন মেয়ের একজন জজ, একজন ইঞ্জিনিয়ার, অন্যজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট- এতো চাট্টিখানি কথা নয়। বহু বিপরীত কথার ¯্রােতে এমন একটি খবর অনেক কিছুই নতুন করে ভাবনার অবকাশ রাখে।

দুই.  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষের কথা বলা হয়, আলোচিত হয়। বিশেষ করে অভিবাসী সম্পর্কিত ট্রাম্পের চিন্তা এই আলোচনাকে আরো উসকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারপোর্টে মুসলিমদের হেনস্তার খবরও অজ্ঞাত নয়। এসব সত্ত্বেও সেই যুক্তরাষ্ট্রেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা সম্পর্কিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি থেকে বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিউ ইয়র্কের। এর মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছে। সে স্কুলে তাদের পরিকল্পনার কথা আলাপ করার সময় বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ কিশোরটিকে আটক করে এবং পরে অন্য তিনজনকে আটক করা হয়।  এতে অন্তত একটা বিষয় পরিষ্কার হয়, মুসলিমদের মধ্যেই শুধু বিভ্রান্তরা নেই, যারা অন্যকে হত্যা ও ক্ষতিগ্রস্ত করার চিন্তা করে। অন্যদের মধ্যেও রয়েছে। আশার কথাটা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা দু’টি দিকেই দৃষ্টি রাখেন। তাদের দু’টি চোখই খোলা।

তিন.  দেশের কথা বলি। অন্যায়, অন্যায্যতার বিপরীতে রাস্তার প্রতিবাদ ক্রমেই দৃশ্যমানতা হারাচ্ছে। জনসম্পৃক্ত কোনো ইস্যুতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রেশার গ্রুপগুলোর পশ্চাৎপদতা এখন ক্ষেত্র বিশেষে দৃশ্যমান। এ বছর ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। আমাদের সড়কের গড় হিসাবে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় এ সংখ্যা কতোটা ভীতিপ্রদ, তা হয়তো গবেষণার বিষয়। কিন্তু এ অবস্থা প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক প্রেসার গ্রুপগুলো, এক প্রকার ‘স্পিকটি নট’। রাজনীতিবিদদের তো কোনো ব্যাপারেই তেমন উচ্চবাচ্য নেই। টাকা পাচারের ভয়াবহ তথ্য দিলো জিএফআই। কোনো কথা নেই, তারা এখন নিজ লেজ বাঁচাতেই ব্যস্ত।

তবে আশার কথা হলো, প্রতিবাদের বিকল্প প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। কোনো কিছুই বিনা প্রতিবাদে যাবার জো নেই এ মাধ্যমে। যদিও রাস্তার প্রতিবাদের ভাষা আর সামাজিক মাধ্যমের ভাষার মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা। সামাজিক মাধ্যমের বেশিরভাগ প্রতিবাদ হয় ব্যঙ্গাত্মক। একসময় যেমন কার্টুনের রমরমা অবস্থা ছিলো তেমনি। ক’দিন আগে হলো, ‘ভালো লাগে-খুশিতে-ঠেলায়-ঘুরতে’ নিয়ে একচোট।

এর আগে চললো ‘ব্লাউজ’ উপাখ্যান। হালে চলছে, ‘চা-শিঙাড়া-সমুচা-চপ’ বিষয়ে। কোনো বিষয় বা কেউ-ই বিনা চ্যালেঞ্জে পার পাচ্ছে বা পাচ্ছেন না। এমন তির্যক প্রতিবাদে যে কাজ হচ্ছে না, তাও নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাস্তার ক্ষীণ প্রতিবাদের চেয়ে, সামাজিক মাধ্যমের সরবতায় বদলে যাচ্ছে অনেক কিছুই। রাজপথের নীরবতার উল্টোদিকে এ সরবতা অবশ্যই প্রত্যাশার আলো। ‘কিছু আশার কথা’র মধ্যে অন্তত একটি কথা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত