শিরোনাম
◈ দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুর কোয়ার্টার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ সৌদিতে কূটনৈতিক তৎপরতায় শ্রীলঙ্কানের মৃত্যুদণ্ড বাতিল, দুই বাংলাদেশির বেলায় কী হলো? ◈ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, স্বজনদের দাবি রাতে খেয়েছিলেন নুডলস ◈ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (ভিডিও) ◈ ড্যাপের নতুন সংশোধনীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমোদন, বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের সুযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থান করলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন দূতাবাসের ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী-তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে নির্দেশনা ◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৪:৩৮ সকাল
আপডেট : ৩১ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৪:৩৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিতর্কিত সাহিত্য পুরস্কার : অযোগ্যদের সান্ত¡না খোঁজা

জাকির তালুকদার : আমরা একসাথে লিখতে শুরু করেছিলোাম অনেকজন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার চেয়ে বেশি প্রমিজিং ছিলো। তবে ছাত্রজীবন শেষ করার পরে বেশিরভাগই মনোযোগ দিয়েছিলো পেশা, পদোন্নতি, চাকরি, ব্যবসায় উন্নতি, ধন-সম্পত্তি অর্জনে। লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ততা কমিয়ে নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে ব্যয় করেছে বছরগুলো, দশকগুলো। জীবনে তারা সফল। সেই সফলতার পরে মনে পড়েছে ফের লেখালেখির কথা। তারা ভাবছে লেখালেখি বোধহয় আগের মতোই আছে। কিন্তু ফের শুরু করা মানে যে নতুনভাবে শুরু করা, একেবারে শুরু থেকে শুরু করা, তেমন ভাবনাটা নেই। তাই খেই পাচ্ছে না। এতোগুলো বছর তারা ঘাড়ে-বগলে পাউডার মেখে বউকে নিয়ে নিজেদের সফলতা উপভোগ করেছে। সেসময়ে সাহিত্য তাদের ছেড়ে এগিয়ে গেছে বহুদূর।

আমি ছিলাম উল্টা পথের যাত্রী। পেশা বা আর্থিক অর্জনের দিকে না গিয়ে লেখাকেই জীবনের প্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই আমার কোনো বাড়ি-গাড়ি-ব্যাংক ব্যালান্স- এসব কিছুই হয়নি। হয়েছে কিছু পাঠক, হয়েছে কিছুটা লেখক পরিচিতি। সেই সাথে অভিশাপের মতো জুটেছে কিছু পুরস্কার।

এখন সেই পিছিয়ে পড়া বন্ধুরা কিছুতেই মানতে রাজি নয় যে সাহিত্য হচ্ছে বছরের পর বছর বুকে হেঁটে পাহাড়ে ওঠার সাধনা। তারা ভাবে, যেহেতু তারা ধনোপার্জন করেছে, চাকরিতে উন্নতি করেছে। অতএব, তারা অবশ্যই প্রতিভাবান। তাই লেখালেখিতে ফেরামাত্রই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু তা না ঘটায় সমস্ত রাগ এখন আমার মতো কয়েকজনের প্রতি। অথচ রাগ তো হবার কথা ছিলো তাদের নিজেদের প্রতি।

বাংলাদেশে সাহিত্য পুরস্কার বেশিরভাগ বছরই বিতর্কিত। তৈলমর্দন, প্রভাব খাটানো, স্বজনপ্রীতি- এসব ব্যাপার আছে। যেহেতু আমি পুরস্কার পেয়েছি, তাই আমিও লেখালেখি নয়, পুরস্কার পেয়েছি ওই পথেই। এটা ভেবে তারা সান্ত¡না পেতেই পারে। তবে আমার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার করার আগে অন্তত আমার লেখা কয়েকটি বই পড়ে নিতে পারতো। তাহলে নিজেদের হীনম্মন্যতা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো তাদের পক্ষে।

সাহিত্যের ইতিহাস যেমন পুরস্কারে কলঙ্ক ধারণ করেছে অনেক, তেমনই চিরকাল এই ধরনের মেধাহীন শ্রমহীন অক্ষম লেখকদের বিষোদগারের মাধ্যমে নিজেদের হালকা করার প্রবণতাও ধারণ করে আসছে।

‘পুরস্কার মানেই হচ্ছে তৈলমর্দন আর অসৎ পন্থায় পাওয়া একটি ঘৃণ্য বস্তু। আর পুরস্কার না পাওয়া মানেই ইতিহাসে মহান লেখক হিসেবে পরিচিত হবার নিশ্চয়তা।’

লেখক : কথাসাহিত্যিক। ফেসবুুক থেকে

 

  • সর্বশেষ