প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নরেন্দ্র মোদীর ৫ বছরে পাওয়া ১৯’শ উপহার নিলামে

মুসফিরাহ হাবীব: ভারতে ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার প্রায় ৫ বছরের শাসনামলে পাওয়া ১৯’শ উপহার নিলাম করছেন। এও নির্বাচনী চমক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগেই শুরু হয়েছে নিলাম।

নয়া দিল্লির ‘ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্ট’-এ রোববার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ নিলাম চলবে ২৮ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসবে উপস্থিত হয়ে মোদী যেসব উপহার, স্মারক পেয়েছেন সেগুলোই নিলামে তোলা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদীর মাথার পাগড়ি, নানা রঙের শাল বা উত্তরীয় (যেগুলো গলায় ঝুলিয়ে তিনি বক্তৃতা করেছেন), পাগড়ির সঙ্গে মানানসই নকশাদার জ্যাকেট কিংবা তরবারিও এখন কিনে ফেলতে পারেন ক্রেতারা। এরকম ১৯০০ টি উপহার বাছাই করেই তা নিলামে তোলা হয়েছে। এতদিন যেগুলো জমা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের তোষাখানায়।

সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের ‘নামামি গঙ্গে’ প্রকল্পের জন্য খরচ করা হবে এ নিলাম থেকে আয় করা অর্থ। ২০১৪ থেকে ২০১৮-র মধ্যে টাকা খরচ হলেও ভারতে গঙ্গা দূষণমুক্ত হয়নি। কোনো কোনো স্থানে দূষণ আরো বেড়েছে। তাই গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে মোদী এখন তোষাখানা খুলে দিয়েছেন।

নিলামের জন্য pmmementos.gov.in নামে একটি আলাদা ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যাবতীয় উপহারের বিবরণ এবং দাম। ২শ’ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের দামের উপহারের ক্যাটালগ দেখে অনলাইনেও নিলামে অংশ নেওয়া যাবে। অবিক্রিত স্মারকগুলো পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নিলাম হচ্ছে। দামী স্মারকগুলো দেওয়া হচ্ছে সস্তায়। মূলত দেশের মধ্যে অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহারই নিলামে উঠেছে।

বিজেপি’র প্রাক্তন এক সাংসদের উপহার দেওয়া সবচেয়ে দামী স্মারকের দাম ৩০ হাজার টাকা। এটিতে ২.২২ কেজি রুপা রয়েছে। আর সবচেয়ে কম দামী স্মারক একটি নীল রঙের কাজ করা উত্তরীয়। রয়েছে রাধাকৃষ্ণর একটি সোনার মূর্তিও। ৪.৭৬ কেজির এ মূর্তি সোনার পাত দিয়ে মোড়া। দাম ২০ হাজার টাকা।

সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, এ সব উপহারের কোনোটিই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি পদস্থ কোনও ব্যক্তি, তা তিনি প্রধানমন্ত্রীই হোন বা রাষ্ট্রপতি, কোনো অনুষ্ঠানে উপহার পেলে তা ৩০ দিনের মধ্যে তোষাখানায় জমা করতে হয়। সেখানকার কর্মকর্তারা এর বাজারদর ঠিক করেন।

এক হাজার টাকার কম দাম হলে উপহার তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তার চেয়ে দামি উপহার নিজের জন্য রাখতে হলে, দাম মেটাতে হয়। তোষাখানার এসব উপহার রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সরকারি দফতর সাজানোর কাজে ব্যবহার হয়। সেই সম্পত্তিই আসলে নিলাম করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত