প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিল্প-সংস্কৃতির পুন্ড্রনগরী, এখন বাণিজ্যনগরী বগুড়া

ফিরোজ আহমেদ সুজা : বগুড়া অতি সুপ্রাচীন কাল থেকেই শিল্প নগরী হিসেবে পরিচয় বহন করে আসছে। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছরেরও আগে, সেই প্রাগ ঐতিহাসিক যুগে, যখন পান্ড্রু রাজ্যও স্থাপন হয়নি আমি তখন কার কথা বলছিলোাম। যখন আর্যদের আবির্ভাব হয়নি, এই ভূখ-ে আখের চাষ হতো ব্যাপকভাবে। আখের রস থেকে গুড়, মিষ্টান্ন, লাল চিনি তৈরি হতো ব্যাপকভাবে, শুধু তাই নয়, খেজুর গুড় আদিম বাংলার ঐতিহ্য, এখানেই শেষ তা নয় পাট চাষ,তা থেকে তন্তু ও পাটজাত পণ্য একমাত্র এ মাটির মানুষেরই আবিষ্কার বললে অত্ত্যুক্তি হবে না, তুলা চাষেও এই মাটির মানুষ ছিলো অতি অগ্রণী। গরদের কাপড় ছিলো এই মাটি তথা এ অঞ্চলের প্রধান ও চমৎকার উন্নত নিজস্ব পণ্যের মধ্যে আর একটি। মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও ছিলো টেরা কোটার শিল্প কর্ম। এই সংস্কৃতির কিছু কিছু যা আজও বিদ্যমান । এই উৎপাদিত পণ্যের আকর্ষণে বারবার জলদস্যু, স্থলে ঘোড়সওয়ারি বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বারবার। আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, কারণ এরা ছিলো জাত শিল্পী, সব কেড়ে নিলেও হস্তশিল্প কেউ কেড়ে নিতে পারে না কোনোদিন। আক্রমণ করেও ওরা থেমে থাকেনি, পরবর্তীতে এদেশ এ মাটি দখলও করে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। আর এ মাটির মানুষকে দাসত্বে পরিণত করে। সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই এ মাটির মানুষের মধ্যে শিল্পের প্রতি বেশি ঝোঁক জেনেটিকভাবেই বহন করে আসছিলো এবং আসছে বর্তমান অব্দি। যার যার ধারাবাহিকতায় বগুড়া গড়ে উঠেছিলো শিল্পে ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে। কিন্তু আমাদের দেশের আমলারা প্রায় সকলেই পদ্মা-যমুনার দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ের, তারা চায় না অত্র এলাকায় কোনো শিল্প কারখানা গড়ে উঠুক।পাশাপাশি যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের শিল্পপতিরা চায় না, উত্তর-পশ্চিম পাড়ের মানুষরা শিল্প অর্থনীতি নির্ভর হোক। কারণ এপাড়ের জনগণ যদি শিল্প অর্থনীতি নির্ভর হয় তাহলে ওপাড়ের শিল্পের একটা স্থানীয় বাজার অর্থাৎ দেশীয় বাজার প্রয়োজন হয় সেটা থাকে না। এপাড়ের মানুষ যদি অর্থনীতিতে স্বনির্ভর হয়, তাহলে ওপাড়ের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে ।
তাই আমাদের এই মাটির মানুষকে ওপাড়ের মুখাপেক্ষী করে রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টার অন্ত নেই। এখানে আমলাদের ও ভূমিকা কম নেই, এ আমলাদের কর্ম হলো এই বঙ্গে কেউ কোনো শিল্পের উদ্যোগ নেয়ার সাথে সাথেই ওই বঙ্গের শিল্পপতিদের কানে পৌঁছে দেয়,সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পেশ ও পাস করে শিল্প প্রতিষ্ঠার কাজে লেগে পড়ে।
তারপর এপাড়ের প্রস্তাবকের প্রস্তাবিত শিল্পের ফাইল ফ্রিজে পড়ে থাকে,পরে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ফলে বগুড়ার শিল্প গড়ার উদ্যোগ ভ্রুণ অবস্থাতেই অ্যাবোর্শন হয়ে যায়। আমাদের পাকিস্তানি কায়দায় নয়া উপনিবেশবাদের আওতায় ফেলা হয়েছে ও হচ্ছে। একসময়কার শিল্পনগরী বগুড়ার নাম মুছে ফেলে বাণিজ্যের শহর বগুড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত