প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুলে রয়েছে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম। এক বছরের বেশী পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি পেট্রোবাংলার সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি)। স্থলভাগ এবং সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত বছর গোড়ার দিকে পিএসসি সংশোধন করতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুলে রয়েছে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম। এক বছরের বেশী পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি পেট্রোবাংলার সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি)। স্থলভাগ এবং সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত বছর গোড়ার দিকে পিএসসি সংশোধন করতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বছরের মাঝামাঝি সংশোধিত পিএসসি জ্বালানি বিভাগে পাঠিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করে পেট্রোবাংলা। কিন্তু অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি অনুমোদন। আর এ কারনে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া আটকে গেছে।

 

দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সবমিলিয়ে ব্লক রয়েছে ৪৮টি। এগুলোর মধ্যে স্থলভাগে ২২টি এবং সাগরে বøক রয়েছে ২৬টি। সাগরের ব্লকগুলোর মধ্যে আবার অগভীর সাগরে ১১টি এবং গভীর সাগরে ১৫টি। স্থলভাগে শেভরন বাংলাদেশ ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। ক্রিস এনার্জি ৯ নম্বর বøক অর্থাৎ বাংগুরা থেকে গ্যাস তুলছে। অন্যদিকে সাগরের ৪টি ব্লকে কাজ করছে সান্তোস-ক্রিশ এনার্জি, ওএনজিসি এবং পেসকো দাইয়ু।

পেট্রোবাংলার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, পিএসসির কারণে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন কাজের কোনও অগ্রগতি হয়নি। পিএসসি সংশোধন না করা পযন্ত দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না। ফলে নতুন কাজও শুরুও করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে নতুন পিএসসি সংশোধন করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর গত কয়েক মাসে কয়েকবার মন্ত্রণালয়  থেকে নানা বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

 

জ্বালানি বিভাগ জানায়, চলতি বছর এই বিভাগের কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে পিএসসি সংশোধন একটি বড় বিষয়। পিএসসি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে রয়েছে। পেট্রোবাংলার আরেক কর্মকর্তা বলেন, পিএসসির দুটি জায়গায় পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন পরামর্শকরা। একটি হচ্ছে, গ্যাসের দাম; অন্যটি হচ্ছে কস্ট রিকভারির হার। বিদেশি কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই ১০০ ভাগ কস্ট রিকভারি দাবি করছে। অর্থাৎ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তারা যে অর্থ ব্যয় করবে তার পুরোটাই তারা তুলে নেবে। কিন্তু এমন হলে পেট্রোবাংলা কোনও গ্যাস পাবে না।

 

সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ কস্ট রিকভারির পরিমাণ ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার পক্ষে পেট্রোবাংলা। এখন গভীর সমুদ্রে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম সাড়ে ৬ ডলার। বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী কোম্পানিগুলো চাইছে, এই দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের এলএনজির সমান করতে। একবারে দাম বাড়িয়ে ৮ থেকে ৯ ডলার করার দাবি করেছে তারা।

 

পেট্রোবাংলা জানায়, সাগরে মোট ৪টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি এসএস-৪ এবং এসএস-৯ নম্বর বøকে তিনটি কূপ খনন করবে। এজন্য এরই মধ্যে তারা অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে সান্তোস এসএস-১১ নম্বর বøকে একটি কূপ খননের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সবমিলিয়ে ৪৮টি বøকের মধ্যে মাত্র ৮টি বøকে এখন কাজের প্রক্রিয়া চলছে এখন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত