প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২৭ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চায় ঐক্যফ্রন্ট

সাইদ রিপন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা আয়োজনের পুলিশি অনুমতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

রোববার রাতে (২৩ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ২৭ তারিখ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার করার জন্য অনুমতি চাইলেও ডিএমপি তা দেয়নি। পুলিশ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আরপিও অনুযায়ী আমরা ২৭ ডিসেম্বর জনসভা করার অধিকার রাখি। আরপিও অনুযায়ী সভা করার জন্য ২৪ ঘন্টা আগে পুলিশ কমিশনারের কাছে দরখাস্ত দিতে হয়। আমরা ২৪ ঘন্টারও বহু আগে গত পরশু (২১ ডিসেম্বর) আবেদন জানিয়েছি। সেই ক্ষেত্রে এত আগে আবেদন করার পরেও গতকাল রাতে (২২ ডিসেম্বর) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২৪ ডিসেম্বরের পরে ঢাকা শহরে আর কোন জনসভা করা যাবে না। এটা প্রচলিত সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ও আইনী বিধানের পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত আমরা প্রচার প্রচারণা করতে পারবো। কিন্তু সভার বিষয়ে আমাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে তা নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ।

প্রধানমন্ত্রী আগামিকাল ঢাকা শহরে জনসভা করবেন। তাঁর জনসভা শেষ হওয়ার পর আর কেউ ঢাকা শহরে জনসভা করতে পারবেন না- এই ধরনের আদেশ পক্ষপাতমুলক ও উদ্দেশ্যমুলক বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আরপিও অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বর আমরা জনসভা করার অধিকার রাখি। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছি আইন অনুযায়ী আমরা ওইদিন জনসভা করতে পারি। আইন মেনে আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু তারা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বলেছেন আমরা ২৪ তারিখের পরে কোন জনসভা করতে পারবো না। আমরা চাইলে ২৪ ডিসেম্বর জনসভা করতে পারতাম। কিন্তু একইদিনে দুটি জনসভা হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কা করে আমরা আগেই ২৭ তারিখে জনসভা করবো বলে ঠিক করে রেখেছি। কিন্তু এতে বাধা দেয়া আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাধা দেয়ার শামিল। আমরা অনুরোধ করবো এই ধরনের কাযর্ক্রমের মাধ্যমে আমাদের অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনিও বলেছেন, ২৭ তারিখে সভাবেশ করতে কোন আইনী বাধা নেই। আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও তার কর্মীদের সরকার দলের সদস্যরা হামলা করে আহত করেছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া কয়েকটি স্থানে পুলিশ তাদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের অস্ত্র উচিয়ে ভয় দিয়ে এলাকা ছাড়তে ও বিভিন্ন মামলার আসামী করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এই বিষয়টিও সিইসিকে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকর্তারা গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাদের দায়িত্ব কর্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রজাতন্ত্রের এই কর্মকর্তারা দলীয় কর্মীর মত আচরণ করছে। অবশ্য আমরা জানিনা কী ব্যবস্থা হবে। তবে, মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার বিষয়ে একটু আস্থার ভাব সৃষ্টির জন্য হলেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা মনে করি পুলিশের এই ধরণের কর্মকর্তা তারা গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এবং এই বাহিনীর যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালনে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর সেই কারনে আমরা দাবি করছি এই ধরনের কর্মকর্তারা দলীও কর্মীর মতো আচরণ করছে অথচ তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারি তাদের বেতন আসে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় , তারা কোন দলের কর্মী না। অতএব তাদের ব্যপারে যেন নির্বাচন কমিশন ব্যবস্তা গ্রহন করে। বিষয়টি ওনারা বলেছেন দেখবেন। আমাদের সামনেই সিইসি নোট নিয়েছেন ,ইসি সচিবের কাছে পাঠালেন এটার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ।

আমরা আশা করি মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে একটুর আস্থারভাব একটু আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির করার জন্য নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলি সম্পর্কে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোটা বিষয়টাই নির্বাচন কমিশনের অধিনে আইন তাই বলে সংবিধান তাই বলে। যারাই বারাবারি করুকনা কেন সে দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর বর্তায়। নির্বাচন কমিশন তার নিবপেক্ষতার স্বার্থে তার সুনামের স্বার্থে যারাই বারাবারি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। নির্বাচন কমিশন না নিলে তারা প্রশ্নের সম্মুখিন হবে। তারা পক্ষপাতিত্বে অভিযোগে অভিযুক্ত হবে । এটা তাদের (ইসির) ব্যপার। আমরা সুধু বাস্তব ও সত্য তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি সেনাবহিনী আমাদের জাতীয় মর্জাদার প্রতিক আমাদের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধ করেছে । স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান, সেনা কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম বিদ্রহ ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই আর্মি বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা সান্তি রক্ষিহিসেবে কাজ করছে।বহুদেশের নির্বাচনে তারা সহোযোগিতা করেছেন, এবং সুনাম অর্জন করেছেন। আমরা তাদের এই সুনামে গর্ববোধ করি। এবং আমরা বিশ্বাস করি যারা বিভিন্ন দেশে স্বান্তি রক্ষার এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য দেশের জন্য সুনাম বয়ে এসেছে তারা আমাদের নিজের দেশের নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে। আমাদের দেশের মর্জাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রশানসন ও পুলিশের ভ’মিকা নিরপেক্ষ দেখছি না। এটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের । তারা এটার ব্যবস্থা নিবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত