প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাহারার ভরসা উন্নয়ন স্বপনের ধানের শীষ

সমকাল : রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মীর সামনে গাড়ি থেকে নেমে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েই দেখা গেল খণ্ড খণ্ড মিছিল। নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে চলা এসব মিছিলে লোকসংখ্যা ২৫০ থেকে ৩০০ জন, আবার কোনোটিতে পাঁচশ’র ওপরে। সকাল ১১টা থেকে মিছিলগুলো ঢাকামুখী হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর, উত্তরা, দক্ষিণখানসহ ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন অলিগলি থেকে মিছিল বের হতে থাকে। গন্তব্য গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠ। ওই মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া জনসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা উত্তরের সবগুলো নির্বাচনী আসনের নেতাকর্মীর গন্তব্য ছিল এই ইয়ুথ ক্লাব মাঠ।

বিমানবন্দর এলাকা থেকে যতগুলো মিছিল বের হয়েছে, সবগুলোর পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের ছবি শোভা পেয়েছিল। ব্যানারে লেখা ছিল- শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন, সাহারা খাতুনের সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন। জনসভার কারণে নির্বাচনী এলাকায় শুক্রবার কোনো কর্মসূচি রাখেননি সাহারা খাতুন। এর আগের দিন পর্যন্ত সব সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করেছেন সাহারা খাতুুন।

অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপনের পক্ষে তেমন কোনো প্রচার চোখে পড়েনি। আজমপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশেই ফল বিক্রি করেন বজলুর রহমান। নির্বাচনী প্রচার নিয়ে তার ভাষ্য- এই আসনে আওয়ামী ও বিএনপি প্রায় সমান অবস্থানে। একবার আওয়ামী লীগ তো আরেকবার বিএনপি জয়ী হয়। তবে চলতি সংসদ ও আগেরবার নিয়ে পরপর দু’বার আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এবার ঐক্যফ্রন্টের যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তিনি এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েকজন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর একমাত্র ভরসা ধানের শীষ প্রতীকের ভোট।

উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এলাকায় পরিচিত নন। তার নিজ দলের নেতাকর্মীও নেই। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে তাকে প্রচার চালাতে হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা বাধার মুখে প্রচার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আর তাদের দেখা যায়নি। বিএনপিরও বড় কোনো নেতা এখনও সেভাবে তার সঙ্গে নামেননি। তবে প্রচারের ক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বড় ধরনের শোডাউন না করে গোপনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ক্যাম্পেইন করে চলেছেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী যেভাবে প্রচার চালাতে পারছেন, আমরা তা পারছি না। সারাদেশের মতো এখানেও হামলার ভয় দেখানো হয়। একবার ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে এসে বাধার মুখে পড়েছিলেন। এরপর মূলত কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। তার বিশ্বাস, শুধু ঢাকা-১৮ আসন নয়, সারাদেশের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এই এলাকায় পরিচিত এবং আগেও তিনি এখান থেকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালও এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। স্থানীয় না হলেও তিনি এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। কিন্তু এবার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কম পরিচিত। এ অবস্থায় শুধু ধানের শীষ প্রতীকের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে তাকে।

অপরদিকে সাহারা খাতুন ২০০৮ সাল থেকে পরপর দু’বার এই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে দলের কয়েকজন নেতা সাহারা খাতুনের বিপক্ষে ছিলেন। তাদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন। তবে এখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাহারা খাতুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। ঢাকা মহানগরের (উত্তর) এম এ এম রাজু আহমেদ উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সমকালকে বলেন, যারা সাহারা খাতুনের বিপক্ষে ছিলেন, তফসিল ঘোষণার পরপরই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আশা করি, জনগণ উন্নয়নের পক্ষে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড, বিমানবন্দর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগসহ উত্তরা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসনের সীমানা। ১৯৯১ সালে এটি ঢাকা-৫ আসন ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুনকে প্রায় ২৬ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একেএম রহমত উল্লাহ বিএনপির মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হারান। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি কামরুল ইসলামের কাছে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটে হেরে যান। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এটি ঢাকা-১৮ আসন হয়। ওই নির্বাচনে সাহারা খাতুনের কাছে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল প্রায় ৯৭ হাজার ভোটে হেরে যান। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে বিএনএফের আতিকুর রহমান নিজাম নির্বাচন করে বিপুল ভোটে সাহারা খাতুনের কাছে পরাজিত হন। এবার নির্বাচনে অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের আনোয়ার হোসেন প্রার্থী হয়েছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মধ্যে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ লড়াই দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত