প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে হিজবুত তাহরির সদস্য গ্রেফতার

সুজন কৈরী : রাজধানীর বারিধারা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সদস্য হিজবুত তাহরিরের এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করছে র‌্যাব-১। তার নাম-মো. মেহেদি মাসনাত সাইমুম (২৭)। শনিবার ভোর ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১ এর ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, হিজবুত তাহরিরের কয়েকজন সদস্য নাশকতার জন্য বারিধারায় একত্রিত হয়েছে- এমন সংবাদ পেয়ে শনিবার ভোরে বারিধারার ডিওএইচএসের ৩ নম্বর সড়কের ২৪০ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাইমুমকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১ টি ল্যাপটপ, ২ টি মোবাইল ফোন, ১টি পেনড্রাইভ, জঙ্গী সংক্রান্ত ৭টি লিফলেট, সরকার বিরোধী ৬টি পোস্টার, জঙ্গী কার্যক্রম সংক্রান্ত ৩টি হ্যান্ডবুকের ফটোকপি ও ৫টি জঙ্গী সংক্রান্ত বই উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সাইমুমের বাসায় বাংলা ও ইংরেজীতে লেখা যেসব পোস্টার পাওয়া গেছে ঠিক একই ধরনের পোস্টার শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে র‌্যাবের গোচরীভূত হয়েছে। সাইমুমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ‘হিজবুত তাহরিরের’ একজন সক্রিয় সদস্য। সে আইইউবি থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে বেলী গ্রুপ নামক একটি কোম্পানীতে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছে। জঙ্গী সংগঠনের তার গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- তাইসির, সিয়াম, আসিফ, আরাফাত, রিয়াদ ও নূরসহ আরো কয়েকজন। বিভিন্ন সময় তারা সবাই একত্রিত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে চাঙ্গা করার জন্য গুলশান আজাদ মসজিদ, মোহাম্মদপুরের আল আমিন মসজিদে ও তাইসিরের বাসায় হালাকায় (আলোচনা সভা) বসত।

এ সময় তাদের সহযোগী পলাতক এহসান জামিলসহ সংগঠনের আরো অনেকের সাথে তার পরিচয় হয় এবং সকলে মিলে জঙ্গী সংগঠনের কাজে নিয়োজিত থাকত। তারা সংগঠনকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে সরকার বিরোধী বিভিন্œ পোস্টার ও লিফলেট রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করত। জিজ্ঞাসাবাদে সাইমুম আরো জানায় যে, আগে সে গ্রুপের সদস্যদের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সে আদর্শিক চিন্তাধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে হিজবুত তাহরিরের কার্যক্রমে চলমান রেখেছে।

সাইমুম জানায়, পলাতক এহসান জামিল মোহাম্মদপুর এলাকার হিজবুত তাহরীরের আমীর। সে ২০০৭-২০০৮ সালে মোহাম্মপুরের লিঙ্কস কোচিংয়ে চাকুরী করত। এহসান জামিল পলাতক প্রতিষ্ঠাতা রেজওয়ান হারুন কর্তৃক পরিচালিত ব্রেইনওয়াশ সেন্টার হিসেবে পরিচিত লেকহেড গ্রামার স্কুলে শিক্ষকতা করত। এছাড়া সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া এহসান জামিলের সহযোগী লেকহেড গ্রামার স্কুলের শিক্ষক সাদমান ও মাহদীর জঙ্গী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা ছিল।

সাইমুম আরো জানায়, অপর এক জঙ্গী সদস্য সিয়াম ২০১৪ সালে তাকে জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন ভিডিও দেখাত। সাইমুম বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী বই ও ভিডিও দেখে এতে অনুপ্রানিত হয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিজবুত তাহরিরে যোগদান করে। সে মূলত ‘খিলাফাহ’ এ বিশ্বাসী এবং নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরিরের মতাদর্শী। সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করাই উক্ত জঙ্গী সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। হিজবুত তাহরিরের সদস্য সিয়াম ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়ে জেলে যায়। পরে সিয়াম জামিনে বের হওয়ার পর তার সাথে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে ২/৩ বার আলোচনা হয়। সে এবং তার সহযোগীরা জঙ্গিবাদের জন্য সমমনা নতুনদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে সংগঠনের জন্য আর্থিক চাঁদা প্রদান করত।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব আরো জানতে পারে যে, হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলার পর আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক গ্রেফতার ও তৎপরতার কারণে সংগঠনটির জঙ্গী কর্মকান্ড স্থিমিত হয়ে পড়লেও সাইমুম ও তার সহযোগীরা পরস্পরের যোগসাজসে দেশের অখন্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্নের জন্য অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা উগ্রবাদী বই ও জঙ্গীবাদি ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে সদস্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত। ইতিপূর্বে এই সংগঠনের কর্মী ও সদস্যরা অসংখ্যবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা করে সাধারণ জনগনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নিরাপত্তা বিঘিœত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত