প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হে শিক্ষক, আপনিও ভদ্রতা শিখুন

স্বকৃত নোমান : নবম শ্রেণির একটা ছাত্রীর বোধ-বুদ্ধি পরিপূর্ণ বিকশিত নয়। এই বয়ঃসন্ধিকালে অনেক কাজই সে না বুঝে করে ফেলে। যেমনটা করেছে ভিকারুননিসা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। পরীক্ষাকক্ষে মোবাইল নেয়া নিষেধ। ধারণা করি, অরিত্রী না বুঝেই মোবাইল নিয়েছিলো। শিক্ষিকাদের অভিযোগ, সে মোবাইল থেকে নকল করছিলো। ধরে নিলাম, সে নকল করছিলো। নকলের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আছে। তার পরীক্ষার খাতাটা নিয়ে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করলেই হতো। এটাই নিয়ম। আমাদের ছাত্রজীবনে এমনটাই আমরা দেখেছি। কিন্তু অরিত্রীর ক্ষেত্রে কী ঘটলো? প্রথমে তার মোবাইল নিয়ে নিলেন শিক্ষিকা। তারপর তার বাবাকে ডেকে পাঠালেন স্কুলে। মেয়ের হয়ে বাবা করজোড়ে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চাইলেন। অরিত্রীও শিক্ষিকার পা ধরে ক্ষমা চাইলো। কিন্তু লাভ হলো না। মেয়ের সামনে বাবাকে চরম অপমান করলেন উপাক্ষ। রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বললেন। পরেরদিন এসে টিসি নিয়ে যেতে বললেন। দিলীপ অধিকারী মেয়েকে নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমে গেলেন। প্রিন্সিপালও তাদের সঙ্গে একই আচরণ করলেন। এসব অপমান সহ্য করতে পারলো না কিশোরী অরিত্রী। বাসায় গিয়ে সে আত্মহত্যা করলো।

শিক্ষিকারা দিলীপ অধিকারী ও অরিত্রীর সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ কেন করলেন? এতোটা অসৌজন্যমূলক আচরণ কি একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে আশা করা যায়? শিক্ষকরা তো মানুষকে আচার-ব্যবহার শেখান। সৌজন্যবোধ শেখান। তা না করে অরিত্রীর বাবার সঙ্গে তারা এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেন কেন? অরিত্রীর বাবা কি প্রধান শিক্ষিকার চাকর? কোন স্পর্ধায় তাকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বললেন? এমন অসৌজন্য, এমন নিষ্ঠুরতা, এমন অভদ্রতা তো আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে আশা করি না।

অরিত্রী আত্মহত্যা করলো। কোনোভাবেই আমি তার আত্মহত্যাকে সমর্থন করছি না। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। যে আত্মহত্যা করে সে ভীরু, সে দুর্বল। পৃথিবীটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হয়। আত্মহত্যা করা মানে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া। এই পলায়নপর মনোভাব সমর্থনযোগ্য নয়। অরিত্রী আত্মহত্যা করে ভীরুতার পরিচয় দিলো। কিন্তু একই সঙ্গে এই প্রশ্নও আসে, তাকে আত্মহত্যা করতে কে প্ররোচিত করেছে? সে কি এমনি এমনি আত্মহত্যা করেছে? মোটেই না। প্ররোচিত করেছে স্কুলের প্রিন্সিপাল ও ভাইস-প্রিন্সিপাল। সুতরাং এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে। কোনোভাবেই তারা এই দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।

অরিত্রীর প্রতি যে খারাপ আচরণ করলেন শিক্ষিকারা, এটি নিঃসন্দেহে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত। আইনের চোখে যদি শিক্ষিকারা অপরাধী হন, তবে অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে। ছাত্রীদের সঙ্গে তারা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের বিচার হলে অন্য স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও একটা বার্তা যাবে যে, শিক্ষক বলে তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। ব্যবসায়িক মনোভাব পরিহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকরা আরো দরদি হবেন, আরো যত্নবান হবেন, এটুকুই আমাদের কামনা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত