প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জে মণিপুরী মহারাসলীলা ও মেলা শুরু

স্বপন কুমার দেব, মৌলভীবাজার : মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “মহারাসলীলা” শুক্রবার শুরু হচ্ছে। কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী মহারাসলীলাকে কেন্দ্র করে গোটা কমলগঞ্জ উপজেলা উৎসবে পরিণত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রায় লক্ষাধিক লোক সমবেত হন। তাদের পদচারণায় দিনরাত অপূর্ব এক মিলনমেলায় পরিণত হবে মাধবপুরের জোড়ামন্ডপ প্রাঙ্গণ এবং আদমপুর নয়াপত্তন এলাকার দুটি স্থানে। আনন্দ উৎসাহ ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনীর মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের অবতার পুরুষ শ্রী কৃষ্ণ ও তার সখি রাধার লীলাকে ঘিরে এই এক দিন বছরের আর সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জবাসীর জন জীবনে। এ বছর মাধবপুর ও আদমপুর মণিপুরী কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত রাসোৎসবের আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক চিফ হুইপ ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার মাধবপুর শিববাজারস্থ উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে বেলা ১১টা থেকে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য’ দিয়ে শুরু হবে মূল উপস্থাপনা। গোষ্ঠলীলায় রাখাল সাজে কৃষ্ণের বালকবেলাকে তুলে ধরা হবে। গোধূলি পর্যন্ত চলবে রাখালনৃত্য। রাত ১১টা থেকে পরিবেশিত হবে মধুর রসের নৃত্য বা শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ; চলবে ভোর (ব্রাহ্ম মুহূর্ত) পর্যন্ত। এই রাসনৃত্যে গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণের মধুরলীলা গানে, সুরে ও কথায় প্রকাশ করা হয়। উৎসব ঘিরে বসবে মেলা।

মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে একদিনের এই আনন্দে। শনিবার সূর্যোদয়েরর সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে। শুক্রবার মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞাণী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে মণিপুরী পল্লী। রাসোৎসবের জন্য তৈরি সাদা কাগজের নকশায় সজ্জিত মণ্ডপগুলো একটি রাত্রির জন্য হয়ে উঠে মানুষের মিলনতীর্থ। মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। রাত ভর চাঁদের আলোয় মায়াবী জোৎনায় নূপুরের সিঞ্চনে মুদ্রা তুলবে সুবর্ণ কঙ্কন পরিহীতা রাধা ও গোপিনী রূপের মণিপুরী তরুনীরা। সুরের আবেশে মাতাল হয়ে উঠবে কমলগঞ্জের প্রকৃতি ও মানুষ।

মণিপুরী মহারাসলীলা সেবাসংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, বাংলাদেশে মণিপুরীদের এক গৌরবময় দিন মহারাসলীলা। ‘হেমন্তকাল মানেই রাসপূর্ণিমা, রাস উৎসব। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা তেমন ভাবছি না। আমাদের এখানে উৎসব চলাকালে কোনো গণ্ডগোল বা অঘটন ঘটেনি।

আদমপুর মণিপুরী মহারাস উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব এ হেমন্ত সিংহ জানান, মণিপুরী সংস্কৃতি, কৃষ্টি, আভিজাত্যে মহিমান্বিত। মণিপুরী নৃত্যশৈলী আন্তর্জাতিক মানের ও বিশ্বজনীন। ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালোই। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার জন্য দুই জায়গাতেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে নিরাপত্তায় পুলিশ তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত