প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী আছে ড. কামালের উদ্দেশ্যে লিখা খোলা চিঠিতে?

সাব্বির আহমেদ : শ্রদ্ধেয় স্যার, আপনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে একটি ডুবন্ত জাতিকে, হতাশায় নিমজ্জমান একটি দেশের সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছেন। চারদিক ঘোর অন্ধকারে যখন তলিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় জাতি আজ আপনার দিকে তাকিয়ে অনেক দূরে হলেও আলোর হাতছানি দেখতে পাচ্ছে। বাংলাদেশের আমার মতো একজন অতি সাধারণ নাগরিকের চিঠিখানি আপনার গোচরে আসবে কিনা আমার জানা নেই। তবু যদি কোনভাবে চিঠিটি এবং এর বিষয়বস্তু আপনার নজরে আসে সেই সামান্য আশা থেকেই চিঠিখানি লিখা।

গত দশটি বছর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতাহীনতায় যে অবর্ণনীয় দুঃখ আর গ্লানি নিয়ে বেঁচে আছে আমি জানি তার সবটুকু খবরই আপনার নজরে আছে। চিঠি আমি বেশি লম্বা করব না সরাসরি মূল কথায় আসি। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী একটি ঐতিহ্যবাহী সুনামের অধিকারী বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বাহিনীর অবদান হাজার বছরেও মলিন হবে না। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর অন্যান্য ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অঞ্চলে এই বাহিনী সুনামের সাথে কাজ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি দেশের ভেতরে স্বৈরাচারের চাপে পড়ে তাদের অবস্থান আজ বিতর্কিত। তাদেরকে সুকৌশলে আজ জনমানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। আমি কখনই বিশ্বাস করি না যে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুলিশ বাহিনী নিজের ইচ্ছায় বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের উপর খগ্ড়হস্ত হয়েছে। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করি না বিবেকবান পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিজের ইচ্ছায় জনগণের উপর অথবা গণতন্ত্রের অন্যতম অংশীদার বিরোধী মতের উপর জুলুম নির্যাতনে রত। পুলিশ বাহিনী একটি সুশৃংখল পেশাদার বাহিনী। রাজনৈতিক সরকারের বৈধ, অবৈধ, নৈতিক, অনৈতিক সকল আদেশ নির্দেশ তারা একটি সুশৃংখল বাহিনী হিসেবে প্রতিপালন করতে বাধ্য। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করি না অনৈতিক অবৈধ আদেশ-নির্দেশ পালন করতে গিয়ে দেশবাসীর উপরে যে জুলুম-নির্যাতন তাদের দ্বারা হয়ে থাকে তা তারা স্বেচ্ছায় করে। আপনি বাংলাদেশের বিবেক হিসেবে আজকে অধিকাংশ মানুষের কাছে পরিচিত। আপনি নিশ্চয়ই আপনার প্রজ্ঞা শিক্ষাদীক্ষা অভিজ্ঞতা ইত্যাদি দিয়ে আমার কথার মর্মার্থ এবং যথার্থতা উপলব্ধি করবেন।

জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমি সুপারিশ করব আপনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে মহাপুলিশ পরিদর্শক এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে তাদের মাধ্যমে তাদের অধীনস্থ সকল পুলিশ ও র‍্যাব বাহিনীর সদস্যকে অনুরোধ করবেন তারা যেন এখন থেকে আর কোনো প্রকার অন্যায় আদেশ নির্দেশ পালন না করে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুলিশ বাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন। এ অবস্থায় আপনি যদি সরাসরি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখেন এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন তাদের গত ১০ বছরের কার্যকলাপ তারা যে স্বেচ্ছায় করে নি এটা বাংলাদেশের আপামর জনগণের বোঝার ক্ষমতা আছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে সমগ্র পুলিশ বাহিনী যেন বেআইনি কোনো কার্যকলাপের সাথে জড়িত না হয় বা কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর পক্ষালম্বন করে সমগ্র জাতিকে তাদের বিপক্ষ শক্তি বানিয়ে না ফেলে।

আপনি আপামর জনসাধারণের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করেন যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি সরকার গঠন করে তাহলে পুলিশ/র‍্যাব বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেই কোনো রকমের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। আপনার মতো জাতির বিবেকের কাছ থেকে এই আশ্বাসবাণী শোনার পর আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে দ্বিতীয় চিন্তার উদ্ভব হবে। তারা আস্থা ফিরে পাবে যে সরকার পরিবর্তন হলে তাদের বিপদে পড়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখে যে কী অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কতটুক চাপের মধ্যে থেকে তারা গণবিরোধী ভূমিকা রেখে চলেছে। এখনো নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব উপেক্ষা করে বিরোধী মতের লোকজনের গ্রেফতার উৎসব বন্ধ হয়নি। বরং এ গ্রেফতার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তাছাড়া সামনের নির্বাচনে পুলিশ এবং র‍্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখনই মোক্ষম সময় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনি যদি পুলিশ প্রধান এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের মাধ্যমে সমগ্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে এই আশ্বাসবাণী প্রদান করেন, তাহলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুলিশ এবং র‍্যাব সদস্যগণ তাদের আচরণে আমূল পরিবর্তন ঘটাবে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

আমি জানিনা আমার এই চিঠিটি আদৌ আপনার নজরে পড়বে কিনা, যদি কোনো সহৃদয় পাঠকের মাধ্যমেও চিঠিখানি আপনার নজরে এসে পড়ে, অনুগ্রহ করে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিকের প্রস্তাবটি সদয় বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমগ্র দেশবাসীর জন্য একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন।

আপনার সুস্বাস্থ্য এবং সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।

জনৈক সাধারণ নাগরিক।

লেখক: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ