প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রম (সংশোধন) বিল ২০১৮ সংসদে পাস
মালিক-শ্রমিকের শাস্তি, কমিয়ে শ্রম বিল পাস

তরিকুল ইসলাম সুমন : বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল-২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এতে মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন অপরাধের শাস্তিও কমানো হয়েছে।

গতকাল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মুজিবুল হজ চুন্নু জাতীয় সংসদে বিলটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরআগে বিলটির উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

তবে এই বিলটি ইপিজেড এলাকার কারখানার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিশ্ব শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইনকে আপডেট করার জন্য অর্থাৎ শ্রমবান্ধব পলিসি সব জায়গায় যাতে নিশ্চিত হয় সেটার জন্য আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

২০১৩ সালে আইনটির ব্যপক উদ্যোগের মাধ্যমে ৯০টি ধারা সংশোধন করা হয়েছিল। বর্তমান শ্রম আইনে ৩৫৪টি ধারা রয়েছে। সংশোধিত বিলে নতুন দুটি ধারা, চারটি উপধারা ও আটটি দফা সংযোজন, ছয়টি উপধারা বিলপ্ত করা হয়েছে।

সংশোধিত শ্রম বিলে মালিক ও শ্রমিকদের অসদাচরণ বা বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড করা হয়েছে। আগে শাস্তি ছিল ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
কোন মালিক শ্রমিকের চাকরির চুক্তিতে ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান নিষেধাজ্ঞা, কোন ট্রেড ইউনিয়নে এর সদস্য পদ চালু রাখার অধিকারের ওপর কোন বাধা সম্বলিত কোন শর্ত আরোপ করতে পারবেন না। মালিক এই বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তি পাবেন। বে-আইনি ধর্মঘট ডাকার দণ্ড আগে এক বছর ছিল, এখন ৬ মাস করা হয়েছে। জরিমানা আগের মতোই ৫ হাজার টাকা রয়েছে। কোন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে তিনি আগে ৬ মাস কারাদন্ডে দণ্ডিত হতেন। এখন সেটা কমিয়ে এক মাস করা হয়েছে।

এছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সমর্থনের হার কমানো হয়েছে। বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে হলে মোট শ্রমিকের ৩০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এখন সেটা কমে হচ্ছে ২০ শতাংশ। ধর্মঘট ডাকার ক্ষেত্রে আগে দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিকের সমর্থন লাগত নতুন আইন অনুযায়ী সেটা ৫১ শতাংশ হচ্ছে।

বিদ্যমান আইনে শ্রমিকদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ রাখার বিধান ছিল। এখন খাবার কক্ষও যুক্ত হয়েছে। ২৫ জনের বেশি শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন এমন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা যাতে সঙ্গে আনা খাবার খেতে ও বিশ্রাম করতে পারেন সেজন্য উপযুক্ত খাবার কক্ষ ও বিশ্রাম রুম রাখতে হবে।

মাতৃত্বকালীন ছুটির বিকল্প হিসেবে এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কোন মালিক কোন নারী শ্রমিককে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে তিনি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবেন। আগে এ ধরনের কোন শাস্তি ছিল না। তবে শর্ত থাকে যে, কোন নারী শ্রমিক প্রসূতিকালীন ছুটিতে যাওয়ার নির্ধারিত তারিখের আগে গর্ভপাত ঘটলে তিনি কোন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন না। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটির প্রয়োজন হলে তা পাবেন।

রেজিস্ট্রেশনের দরখাস্ত পাওয়ার ৫৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। আগে এই সময় ছিল ৬০ দিন। তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করতে পারবেন আবেদনকারী।

শ্রম আদালতগুলো মামলা দায়েরের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রায় দিয়ে দেবে। ৯০ দিনের মধ্যে কোনভাবে দেয়া সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই রায় দিতে হবে। অর্থাৎ ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা শেষ করতে হবে। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকেও ৯০ দিন করে দুই দফায় ১৮০ দিনে মধ্যে অবশ্যই আপিল শেষ করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ